রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা বিবেচনায় রেল, গঠন করা হয়েছে দুটি তদন্ত কমিটি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল।
একই সঙ্গে রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি না করতে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম।
তিনি বলেন, রাজশাহী রেলস্টেশনে সংঘটিত ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করবে। একটি কমিটি চার রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করবে, অপরটি স্টেশনে সংঘটিত ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জিএম বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে:-
আইনগতভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঘটনাটির সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকায় সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এর আগে সোমবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রেলওয়ে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জানা গেছে, রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন, ফলে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা ব্যাহত হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।ঘটনার পর চার আরএনবি সদস্য—আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জিএম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে কিছু অসন্তোষ দেখা দিলেও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
রাজশাহী রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় জিএম ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ ও যাত্রীসেবার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রেলওয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিপক্ষ হতে পারেন না। রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে, যাতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি এড়ানো যায়।
রোববার রাতের ঘটনায় ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরদিন সকালেও ঢাকা-রাজশাহী রুটে ট্রেন পরিচালনায় প্রভাব পড়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সোমবার সকাল থেকে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশা, তদন্ত ও পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।