রাজশাহীর মোহনপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও গুরুতর আহত

Mother hacked to death in Mohanpur, father also seriously injured
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৪ অপরাহ্ন
রাজশাহীর মোহনপুরে মাকে  কুপিয়ে হত্যা, বাবাও গুরুতর আহত
রাজশাহীর মোহনপুরে জান্নাতুন (৫৫) নামে এক নারীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩২)-এর বিরুদ্ধে।

রাজশাহীর মোহনপুরে জান্নাতুন (৫৫) নামে এক নারীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩২)-এর বিরুদ্ধে। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমিনুলের হামলায় তাঁর বাবা মুজিব সরদারও গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বুধবার (২৩সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাতুন ওই গ্রামের মুজিব সরদারের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম মাদক সেবনে অভ্যস্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তাঁর প্রায়ই বিরোধ ও ঝামেলা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে আমিনুলের সঙ্গে তাঁর মা জান্নাতুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমিনুল হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালান এবং হাসোয়া দিয়ে এলো পাথারি  কোপাতে থাকেন, এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই জান্নাতুনের মৃত্যু হয়।

স্ত্রী বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমিনুল তাঁর বাবা মুজিব সরদারের ওপরও হাসুয়া দিয়ে আঘাত করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আমিনুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার বলেন, মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলার পেছনের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে।