ফ্লাইওভারের নিচে ড্রেনের মাটি, এক দিনের বৃষ্টিতেই কাদায় রেলগেট
রাজশাহী নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গোরহাঙ্গা রেলগেট। যানজট নিরসন ও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সেখানে চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। একই সঙ্গে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই উন্নয়নকাজের মধ্যেই ড্রেন থেকে উত্তোলন করা কাদামাটি দিয়ে ফ্লাইওভারের পাশের একটি বড় গর্ত ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। এক দিনের বৃষ্টিতেই ওই স্থানটি কাদাযুক্ত ও নোংরা পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকার কবরস্থানের ডান পাশে, নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের একটি বড় পিলারের পাশে এ ঘটনা দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, সিটি করপোরেশনের পরিচয় দেওয়া এক শ্রমিক ড্রেন থেকে উত্তোলন করা ময়লা ও কাদাযুক্ত মাটি ডালিতে করে এনে সেখানে থাকা একটি বড় গর্তে ফেলছিলেন।
এ সময় ওই শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘ভাই, এখানে কী ফেলছেন—মাটি?’ প্রথমে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সরে যেতে থাকেন। পরে তিনি কোন বিভাগের লোক জানতে চাইলে নিজেকে সিটি করপোরেশনের কর্মী বলে পরিচয় দেন। এরপর কাছে গিয়ে দেখা যায়, যে মাটি দিয়ে গর্তটি ভরাট করা হচ্ছে, তা ড্রেন থেকে উত্তোলন করা ময়লা ও কাদাযুক্ত মাটি।
এর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টিপাত হলে ওই স্থানটির চিত্র পাল্টে যায়। ড্রেনের কাদামাটি ও বৃষ্টির পানি মিশে জায়গাটি কাদাযুক্ত ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে গর্ত ভরাটে ড্রেনের উত্তোলিত কাদামাটি ব্যবহার করা হলে সেটি কতটা টেকসই এবং জনদুর্ভোগ কমানোর পরিবর্তে তা নতুন ভোগান্তির কারণ হচ্ছে কি না।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, গোরহাঙ্গা রেলগেটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পাশাপাশি সড়কের খানাখন্দ মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
এদিকে, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রেলগেটসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের খানাখন্দ, অসমতল অংশ ও বৃষ্টির সময় কাদাযুক্ত পরিবেশ নিয়ে ভোগান্তির কথা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রেলগেট প্রকল্পের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে মাটি ভরাটের প্রয়োজন থাকতেই পারে। তবে ড্রেন থেকে উত্তোলন করা কাদাযুক্ত ও বর্জ্যমিশ্রিত মাটি কোনো গর্ত ভরাটে ব্যবহার করার আগে সেটি প্রকৌশলগতভাবে উপযুক্ত কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকা কিংবা যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জায়গায় এমন মাটি ব্যবহার করা হলে তা দ্রুত বসে গিয়ে নতুন গর্ত বা কাদার সৃষ্টি করতে পারে।
নগরবাসীর প্রশ্ন, যে এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার ও সড়ক-ড্রেনেজ উন্নয়নের কাজ চলছে, সেখানে ড্রেনের কাদামাটি দিয়ে গর্ত ভরাটের মতো কাজ কীভাবে হচ্ছে? এ ধরনের কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা তদারকি কর্মকর্তাদের নজরদারি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ তদন্ত করে দেখবে। কোথা থেকে মাটি আনা হয়েছে, কোন নির্দেশনায় তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভরাটের কাজে ব্যবহৃত মাটি প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী উপযুক্ত কি না—এসব বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; নির্মাণকাজের গুণগত মান, পরিবেশ, জননিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নগরীর প্রাণকেন্দ্র রেলগেট এলাকায় চলমান উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।