বিজিবির অভিযানে উদ্ধার ২৬ কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ১,৮১৮ প্রাচীন মুদ্রা
সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা ২৬টি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ১ হাজার ৮১৮টি মুদ্রা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করেছে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার, পিএসসি, জি আর্টিলারী এসব প্রত্নসম্পদ জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া প্রত্নসম্পদ যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া প্রত্নসম্পদের মধ্যে রয়েছে ২৬টি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি এবং ১ হাজার ৮১৮টি মুদ্রা। এগুলো বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকার পরিচালক মো. সাদেকুল ইসলাম ও কীপার মোহাম্মদ মনিরুল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, এসব প্রত্নসম্পদের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তরের ফলে নিদর্শনগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ, পরিচয় নির্ধারণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্নসম্পদ একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অবৈধভাবে এসব নিদর্শন দেশের বাইরে পাচার হলে তা শুধু জাতীয় সম্পদের ক্ষতিই নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হারানোরও আশঙ্কা তৈরি করে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে বিজিবি।
রাজশাহী ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, সীমান্তে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।