চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ৩৬, হাসপাতালে ভর্তি ৯৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৩৬ রোগীর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, গোমস্তাপুরে দুজন, নাচোলে একজন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩১ রোগীর মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী।
চিকিৎসাধীন ৯৮ জন, পুরুষ ৬০:-
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৮ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৬০ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারী। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
তবে আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে জেলায় একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৩০ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য চারজন রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
দিনে মশার কামড় থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ:-
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সম্মিলিত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।