স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর আত্মহত্যা, পঞ্চগড়ের পাশাপাশি চিতায়

Wife commits suicide after husband's death
কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রনিধিতিঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রনিধিতিঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫১ অপরাহ্ন
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর আত্মহত্যা, পঞ্চগড়ের পাশাপাশি চিতায়
স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন এক স্ত্রীর।

স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন এক স্ত্রীর। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাঁধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশের রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে।

 নিহত নিত্য বালার (৭০) রাঁধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার মৃত স্বামীর নাম হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০)। স্বামী স্ত্রী দুজনই ওই এলাকার একটি মন্দিরে নিয়মিত পূজারি ছিলেন।

পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, হরেন্দ্র নাথ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। স্ত্রী নিত্য বালা রাতভর তার স্বামী হরেন্দ্র নাথের মরদেহের পাশে কেঁদেছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে তাকে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সকাল ৮টার দিকে শ্মশানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

নিহত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মা সারা রাত বাবার শিয়রে বসে কেঁদেছেন। সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে আমরা রেললাইনে তার মরদেহ পাই। মা বাবাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে চাননি বলেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, স্বামীর শোকে স্ত্রীর আত্মাহুতি সনাতনীদের মাঝে বিরল ঘটনা। বর্তমান যুগে স্বামীর প্রতি এমন ভালোবাসা স্ত্রীদের মধ্যে দেখা যায় না। তবে মাত্র ৯ ঘন্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যু বিষয়টি হৃদয় বিদারক।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনার পর স্বজনেরা মরদেহ উদ্ধার করে দ্রুত সৎকার করেছেন। পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।