বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

cricket
অনলাইন ডেস্ক ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন খেলা
অনলাইন ডেস্ক ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান
--সংগৃহীত ছবি

নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেট স্লো। সেখানে বাংলাদেশের দেওয়া ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্যটা কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছিল। তবে কে জানতো মুস্তাফিজুর রহমান এমন বাজে দিন পার করবেন! তার ২ ওভারে ৪১ রান নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে নির্ধারিত ওভারের ৯ বল এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই তারা জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে।


এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে এখনও পদক জেতার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ভারত-শ্রীলঙ্কা। ওই ম্যাচে বিজয়ীরা ফাইনালে এবং পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর সকালে ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্যে খেলবে লিটন দাসের দল। 


নাগোয়ার আশিন সিটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মলিন মুখ। লিটন-মুস্তাফিজদের জয় দেখতে এসেছিলেন তারা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাকিস্তানকে হারালে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠত। এতে অন্তত রৌপ্য পদক নিশ্চিত হতো তাদের। উল্টো পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এখন ব্রোঞ্জের জন্য লড়তে হবে। 


টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ওভারে বাংলাদেশ ১১১ রান করেছিল। স্পিনিং উইকেটে বাংলাদেশ চার জন স্পিনার নিয়ে খেললেও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে ব্যবহারই করেননি অধিনায়ক লিটন। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরীক্ষিত বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি দুই ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন। তার দুই ওভারেই বাংলাদেশ মূলত ম্যাচ হেরেছে।


স্পিনিং উইকেটে বাংলাদেশ দুই প্রান্ত থেকেই স্পিনার দিয়ে বল শুরু করে। প্রথম ৩ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ২০ রান দেয়। এরপর মুস্তাফিজকে পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে আনেন অধিনায়ক লিটন। ওই ওভারেই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেন পাকিস্তানি ব্যাটার সাইম আইয়ুব। মুস্তাফিজের প্রথম দুই বলেই তিনি টানা দুই ছয় হাঁকান। ওভারের শেষ বলে অবশ্য মুস্তাফিজ স্লোয়ারে আইয়ুবকে বিদায় করেন। 


দলীয় ৫৩ রানে উসমান খান আউট হলে বাংলাদেশ আবার ম্যাচে ফেরে। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী দুই প্রান্ত থেকে মোটামুটি রান নিয়ন্ত্রণে রাখছিলেন। দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন। ওই ওভারেই মূলত ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। তিনি সেই ওভারে ২৩ রান দেন। আব্দুল সামাদ তার দ্বিতীয় বলে ছক্কা, এরপর টানা চারটি চার হাঁকান। ফলে ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রান প্রয়োজন হয় পাকিস্তানের।


৯ বল বাকি থাকতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে স্বর্ণের লড়াই নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান ও আইয়ুবের ১২ বলে ২১ রানের ইনিংস ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। ২২ বলে ২৭ রান করেন নাসান নেওয়াজ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বড় রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বোলারদের পারফরম্যান্সও ঠিকঠাক হয়নি। স্পিনিং উইকেটেও নাসুম ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়েছেন।


এর আগে সোয়া একঘণ্টা পর শুরু হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশি প্রবাসীরা অবশ্য খুব বেশি চার-ছক্কার মার দেখতে পারেননি। ১৩ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করেছে। খেলার দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় পাওয়ার প্লে ছিল ৪ ওভার। পাওয়ার প্লে’তে যেখানে রানের ফুলঝুরি ছোটার কথা, সেখানে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩ রান করে।


বৃষ্টিতে উইকেট চার দিনের বেশি কাভারের নিচে থাকায় স্পিনারদের দিয়েই বেশিরভাগ ওভার করিয়েছে পাকিস্তান। স্পিনার সাইম আইয়ুব ২ ওভারে ৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। তিনিই মূলত রান চেক দিয়েছেন।


পাকিস্তান এশিয়ান গেমসে পূর্ণ শক্তির দল পাঠায়নি। বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল পাঠিয়েও পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে যথেষ্ট হিমশিম খেয়েছে। তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংস না খেললে স্কোর ১০০ অতিক্রম করাও কঠিন ছিল। হৃদয়, সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক সৈকত ছাড়া কেউই দুই অঙ্কের স্কোর করতে পারেননি। সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তিন বলে মাত্র ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট হয়ে দলকে চরম চাপে ফেলেন।


১৩ ওভারের ম্যাচেও বাংলাদেশ অনেক ধীরগতিতে ব্যাট করেছে। এক পর্যায়ে ৬.৩ ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট ছিল। হৃদয় ও সৈকতের জুটিতে ৪৩ রান হয়। কিন্তু উভয়েই আবার দুই রানের ব্যবধানে আউট হওয়ায় বাংলাদেশের স্কোর আরও বড় হয়নি। 


পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপও বাংলাদেশকে যথেষ্ট চাপে রেখেছিল। সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। পাকিস্তান বাংলাদেশকে আরও কম রানে বেধে রাখার সুযোগ থাকলেও ১৫টি ওয়াইড দিয়েছে। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় আউটফিল্ড কিছুটা স্লো।