রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে জমজমাট সিল্কের বাজার: চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণ
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও বর্ণিল আয়োজনের ছোঁয়ায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যের রেশম জনপদ রাজশাহীর সিল্কের বাজার। উৎসবের আমেজ, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় আর রেশমের নান্দনিক ছাঁদে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এখানকার শোরুমগুলো।
ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের নিখুঁত মেলবন্ধনে গড়া রেশমপণ্য এবারের পূজায় ক্রেতাদের প্রধান পছন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরের তুলনায় এবার দুর্গাপূজা ঘিরে সিল্কের পোশাকের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উৎসবপ্রেমী মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরীর সপুরা সিল্ক, উষা সিল্ক এবং সরকারি রেশম কারখানার বিক্রয়কেন্দ্রসহ নামী-দামী সিল্ক হাউজগুলো। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই কেনাকাটায় চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আকর্ষণীয় সিল্কের থ্রি-পিস ও অভিজাত পাঞ্জাবি, যার পরপরই রয়েছে নান্দনিক সিল্কের শাড়ির অবস্থান।
বাজারে কাপড়ে নতুন মাত্রা আনতে ‘র’ সিল্ক ও মসলিন থানকাপড়ের ওপর যুক্ত করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ, ব্লকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি ও জামদানি নকশা। সপুরা সিল্ক মিলসের পরিচালক সাজ্জাদ আলী জানান, রেশমের মসলিন থানকাপড়ের উৎপাদন সর্বোচ্চ বাড়িয়েও বর্তমান চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
বর্তমানে রেশমের থানকাপড়ের ওপর নিখুঁত কারুকাজ ও হাতের কাজ করছেন প্রায় সাতশ নারী কর্মী, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া একশ্রেণির তরুণ উদ্যোক্তা এসব থানকাপড় কিনে আধুনিক ও সমসাময়িক নকশা যুক্ত করে অনলাইনে সারা দেশে পৌঁছে দিচ্ছেন, যা সিল্ক পণ্যের বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করেছে।
রাজশাহী সরকারি রেশম কারখানার বিক্রয়কেন্দ্রেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। এখানে গরদ শাড়ি, স্ট্রাইপ সুপার বলাকা, ধুপিয়ান সার্টিন, থানকাপড়, টু-পিস, ওড়না থেকে শুরু করে হিজাব ও টাই পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানে পরার উপযোগী ধুপিয়ান সিল্কের একটু ভারী কাপড়ের পাঞ্জাবির চাহিদা এবার রয়েছে আকাশচুম্বী।
নকশা, কাপড়ের ধরন ও হাতের কাজের সূক্ষ্মতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হচ্ছে রেশমপণ্যের দাম। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী—
শাড়ি: সফট সিল্ক ৩,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা; এন্ডি সিল্ক ৩,৮৫০ থেকে ৭,৯৫০ টাকা; ‘র’ সিল্ক হ্যান্ডপ্রিন্ট ৩,৫৫০ থেকে ৬,৫০০ টাকা; এমব্রয়ডারি করা মসলিন সিল্ক ৯,৫00 থেকে ৩২,৫০০ টাকা; বলাকা সিল্ক ২,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা; ভেজিটেবল ডাই সিল্ক ৪,৭০০ থেকে ১৩,৮০০ টাকা এবং মটকা সিল্ক ৫,০০০ টাকা থেকে শুরু।
অন্যান্য পোশাক: সফট ও ‘র’ সিল্কের থ্রি-পিস ৬,০৫০ থেকে ৩২,৫০০ টাকা; শার্ট ২,০০০ থেকে ৩,৫00 টাকা এবং পাঞ্জাবি ৬,৫০০ থেকে ২২,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
থানকাপড়: ‘র’ সিল্ক মসলিন প্রতি গজ ৪৫০ টাকা, বলাকা থান ১,০৫০ টাকা এবং ধুপিয়ান থান ১,২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের দিন যতই ঘনাচ্ছে, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশমের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের কোলাহল এবং রেশমের এই সুদিন ততই প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে বেচাকেনার এই ধারা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।