পদ্মায় তিন দিন পর ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ: সৎকার নিয়ে থানা-পুলিশের 'টানাপোড়েন'
রাজশাহীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডগার ঘাট এলাকায় নদীতে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক শিশুর মরদেহ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
এই শোকের মধ্যে মরদেহ হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া ও সৎকার নিয়ে দুই থানা-পুলিশের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ডগার ঘাট এলাকায় নদীতে ভেড়ানো একটি নৌকায় খেলা করার সময় অসাবধানতাবশত শিশুটি পদ্মার পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে তীব্র স্রোতের কারণে তখন শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজের তিন দিন পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে মিরগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন।
প্রায় তিন দিন পানিতে ভেসে থাকায় মরদেহটি অর্ধগলিত রূপ নিয়েছে বলে উদ্ধারকারীরা জানান। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে শিশুটির দাফন বা সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজন ও এলাকাবাসী মতিহার থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান—ঘটনাস্থল ও মরদেহের অবস্থান কাটাখালী থানার আওতাধীন। পরবর্তীতে কাটাখালী থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা নৌপুলিশের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়।
স্বজন হারানোর চরম বেদনার মুহূর্তে আইনি আনুষ্ঠানিকতার নামে এভাবে এক থানা থেকে অন্য থানায় পাঠানোর ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি নিষ্পাপ শিশুর সলিল সমাধির পর যখন পরিবারের দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন, তখন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের এমন সমন্বয়হীনতা ও দায় এড়ানোর নীতি অত্যন্ত দুঃখজনক।"
নিহত শিশুর পরিবারকে আরও বেশি মানসিক হেনস্তা না করে দ্রুত সুরতহাল সম্পন্নকরণ ও মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সরাসরি কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ডগার ঘাট এলাকার বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।