সৈয়দপুরে রেলের ৭০ একর জমি উদ্ধারের উদ্যোগ, নতুন লিজ বন্ধ- রেলমন্ত্রী

Sheikh Md. Rabiul Alam
আবুল কালাম আজাদ,​বিশেষ প্রতিনিধি:- ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৩ অপরাহ্ন জাতীয়
আবুল কালাম আজাদ,​বিশেষ প্রতিনিধি:- ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
সৈয়দপুরে রেলের ৭০ একর জমি উদ্ধারের উদ্যোগ, নতুন লিজ বন্ধ- রেলমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যবহারে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জমির সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং আপাতত রেলওয়ের যেকোনো জমি নতুন করে লিজ দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।

​মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্যের কথা জানান।

​আইনি প্রক্রিয়ায় জমি চিহ্নিতকরণ:-

​রেলওয়ের জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘সৈয়দপুর পৌরসভা ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দ্রুতই জমি চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ করা হবে এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’’

​তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘রেলওয়ের অর্জিত সম্পত্তি সর্বপ্রথমে রেলের নিজস্ব সম্প্রসারণে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের জনস্বার্থে ব্যবহৃত হবে। ব্যক্তি বা কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দখলে থাকা জমির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’’

​রেলের আবাসন ও লোকবল সংকট:-

​সৈয়দপুরে রেলওয়ের আবাসন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সেখানে প্রায় ২,৪০০টি সরকারি বাসা থাকলেও বর্তমানে বসবাস করছেন মাত্র ৯০০ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী। পৌর এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে উন্নত বাসস্থান পাওয়ায় অনেকেই সরকারি আবাসনে থাকছেন না, ফলে আবাসন সংকটের কোনো অবকাশ নেই।

​তবে সৈয়দপুর কারখানার ঐতিহ্যবাহী কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘একসময় এই ঐতিহ্যবাহী কারখানায় প্রায় ১২ হাজার ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হতো। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে তা বর্তমানে নেমে এসেছে মাত্র ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হচ্ছে। দেশীয় দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এসব যন্ত্রাংশ পুনরায় তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’’

​৪০০ কোচ মেরামতের পরিকল্পনা ও হাসপাতাল পরিচালনা

​রেলওয়ের বর্তমান বহরের অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে বর্তমানে প্রায় ৪০০টি যাত্রীবাহী কোচ মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। এসব কোচ দ্রুত সচল করে যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত করতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কারিগর নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

​এছাড়া, রেলওয়ের চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়ন করতে দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় (Joint Management) পরিচালনার আলোচনা চলছে। নিজস্ব চিকিৎসক ও নার্স সংকটের সীমাবদ্ধতা দূর করে যাত্রীদের ও কর্মচারীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

​নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রেল খাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সৈয়দপুর কারখানার পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে এবং বেহাত জমি উদ্ধার করা গেলে পুরো দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।