বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

Young man dies after being hit by friend's baton
অনলাইন ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
--সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বন্ধুর বাটামের আঘাতে ইমদাদুল হক (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি নাইস খন্দকারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 


নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকার একই এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইমদাদুল ও নাইস। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে নাইসের মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন ইমদাদুল। নাইসকে রাস্তায় দাড় করিয়ে রেখে তিনি তার বাড়িতে যান এবং ছেলের আচরণ নিয়ে মায়ের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে আবারও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


একপর্যায়ে নাইস কাঠের বাটাম হাতে নিয়ে ইমদাদুলকে ধাওয়া করেন। পালানোর সময় ইমদাদুল বাড়ির ভেতরে পড়ে গেলে তার মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন নাইস। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন ইমদাদুল। দীর্ঘ সময় ইমদাদুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় স্বজনেরা তার খোঁজ করতে যান। পরে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েল ও ঘরের মাঝখানে বেড়ার পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। তবে পথেই খাজানগর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।


তবে অভিযুক্ত নাইসের মায়ের ভাষ্য, ইমদাদুল তার বাড়িতে এসে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমদাদুল একটি লাঠি দিয়ে নাইসকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পড়ে গেলে নাইস তার মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন।


ঘটনার পর নাইস বাড়ি ছেড়ে লালব্রিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে আটক করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি পাশের বধ্যভূমির দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে মারধর করেন তারা। এরপর স্থানীয়রা তাকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।


স্থানীয়রা জানান, ইমদাদুল বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফ্লাইট না হওয়ায় মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে আসেন। তাদের দাবি, নাইস কোনো কাজ করতেন না এবং তার মেজাজ ছিল উগ্র।


এদিকে নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে নাইস খন্দকারকে একমাত্র আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল বিশ্বাস বলেন, ইয়ারকির ছলে শুরু হওয়া কথা কাটাকাটি থেকে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নাইস বাটাম দিয়ে ইমদাদুলের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে নেন। পরে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।