বদলগাছীতে জমি নিয়ে বিরোধ, পেঁয়াজ-আলু ও ধানের ফসল নষ্টের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

Land dispute in Badalgachhi
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ) ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ) ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০৬ অপরাহ্ন
বদলগাছীতে জমি নিয়ে বিরোধ, পেঁয়াজ-আলু ও ধানের ফসল নষ্টের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
বদলগাছী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পেঁয়াজ, মিষ্টি আলু ও ধানের ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পেঁয়াজ, মিষ্টি আলু ও ধানের ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। জমির ভোগদখলকারী খোরশেদ (৫৫) দাবি করেছেন, পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করে তাঁর প্রায় ১ বিঘা ২ কাঠা জমির ফসল নষ্ট করা হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সহেরাব হোসেন উজ্জ্বল। এ ঘটনায় বুলেট নামে আরও একজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন খোরশেদ সহ স্থানীয়রা।


খোরশেদের অভিযোগ, জমিতে পেঁয়াজ ও মিষ্টি আলুর আবাদ করা ছিল। পাশাপাশি জমির একাংশে কাঁচা ধানও ছিল। অভিযুক্তরা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমিতে হাল চাষ করে এসব ফসল নষ্ট করেন। ঘটনার দিন দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জন ও মেলা নিয়ে স্থানীয় লোকজন ব্যস্ত ছিলেন বলে জানান। 

খোরশেদ জানান, পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রায় চার মণ গুটি পেঁয়াজ কিনতে তাঁর ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মিষ্টি আলুর বীজ ও বানের জন্য তিন হাজার টাকা এবং সারসহ অন্যান্য উপকরণে আরও প্রায় চার হাজার টাকা ব্যয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ কাঠা জমির ধানও নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় জমিগুলো ভিপি সম্পত্তি হিসেবে মামলা-মোকদ্দমার আওতায় ছিল। ওই সময় পূর্বপাড়া মসজিদ কমিটি জমিগুলো চাষাবাদ করত। পরে আদালতের রায় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির দখল হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি।

খোরশেদের পরিবারের দাবি, নওগাঁয় বসবাসরত শ্রী নলিনীর কাছ থেকে আরচা গ্রামের ইসা সরদার জমিটি কেনেন। পরে ইসা সরদারের কাছ থেকে খোরশেদের বাবা ওয়াজেদ আলী জমিটি ক্রয় করেন। সেই সূত্রে তাঁরা কবলামূলে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি খোরশেদের।

এদিকে একই দাগের জমি নিয়ে দোনইল গ্রামের মৃত সচীনের ছেলে শ্যামলের (৪৫) সঙ্গে বিরোধের কথাও জানিয়েছেন খোরশেদের স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার জমি থেকে পটল তুলে ফেরার পথে খোরশেদের জমিতে কাজ করা উদয়কে (২৭) শ্যামল হুমকি দেন এবং হাসুয়া দিয়ে কোপ দেন। এ সময় শ্যামলের সঙ্গে থাকা গোবিন্দ নামের আরেক ব্যক্তি উদয়কে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জমিতে পেঁয়াজ রোপণকারীদেরও হাসুয়া হাতে নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা। 

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল জানান, পাশের পানবরজ দেখতে গিয়ে তিনি পরে জানতে পারেন, খোরশেদের জমিতে পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করা হয়েছে। রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার দিকে তিনি ফসল নষ্টের বিষয়টি খোরশেদকে জানান।

দুলালের আরও জানান,, কয়েক দিন আগেই খোরশেদ জমিতে পেঁয়াজ ও মিষ্টি আলু লাগিয়েছিলেন। উজ্জ্বল ও বুলেট পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করে ফসল নষ্ট করেছেন বলে তিনি জানান। জমিতে ধানও ছিল এবং সেগুলোও নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফসল নষ্টের অভিযোগের বিষয়ে সহেরাব হোসেন উজ্জ্বল বলেন, “আমি নিজেই জমিতে চাষ করেছি।”

তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা-দাদার নামে প্রায় চার বিঘা জমির দলিল রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জমিটি চাষ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগে মসজিদ কমিটি জমিটি চাষ করত। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর খোরশেদ সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন।

উজ্জ্বলের দাবি, খোরশেদের সঙ্গে জমি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছিল। পাট ও পটল তুলে জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও খোরশেদ উপস্থিত হননি বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও বিচার চেয়েছিলেন।

উজ্জ্বল আরও বলেন, জমির একাংশে পেঁয়াজ, মিষ্টি আলু ও ধানের আবাদ ছিল। পটল তোলার পর তাঁরা জমিতে চাষ করে সরিষা বুনেছেন।

এ বিষয়ে বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ জানায়নি।

এ ব্যপারে বালুভড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল এমরান জানান, এই জমিটির ব্যাপারে সারোয়ার হোসেন উজ্জল বাদী হয়ে জমির দলিলের ফটোকপি সহ অভিযোগ দিয়েছিলো আমার কাছে। বিবাদী খোরশেদ কে ডেকে পাঠালেও তিনি আসেন নি। 

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।