বদলগাছীর তিন নারী হ্যান্ডবল খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা

Three female handball players felicitated
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৬ অপরাহ্ন
বদলগাছীর তিন নারী হ্যান্ডবল খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা
জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের তিন খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা দিয়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের রানার্সআপ হওয়ার সাফল্যে অবদান রাখায় জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের তিন খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা দিয়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রশাসন। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত খেলোয়াড়েরা হলেন সুমাইয়া আক্তার, অনুরাধা পাহান ও পূর্ণিমা রানী। তাঁরা তিনজনই বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা।

আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে (IHF Nations Trophy) বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের রানার্সআপ হওয়ার অর্জনকে সম্মান জানাতে রবিবার ২৫শে অক্টোবর সকাল ১১টায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

বদলগাছী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী ) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। তিনি তিন খেলোয়াড়ের হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে হুদা বাবুল বলেন, সুমাইয়া, অনুরাধা ও পূর্ণিমা বদলগাছী তথা পুরো বাংলাদেশের গর্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁদের সাফল্য দেশের নারীদের খেলাধুলায় আরও বেশি উৎসাহিত করবে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। উপজেলা প্রশাসন সব সময় কৃতী খেলোয়াড়দের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

সংবর্ধনা পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, মাঠে আমাদের একটাই লক্ষ্য থাকে—লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরা। আজকের এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে চাই। আমাদের এই অর্জনের পেছনে কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের অবদান অপরিসীম।

অনুরাধা পাহান বলেন, মাঠের প্রতিটি মুহূর্তের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ আজ সার্থক বলে মনে হচ্ছে। সংবর্ধনার মঞ্চ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ভবিষ্যতে দেশের জন্য সেরাটা দিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

পূর্ণিমা রানী বলেন, খেলার মাঠে জয়ের চেয়েও বড় আনন্দ হলো, দেশবাসী যখন আমাদের এভাবে আপন করে নেয়। এই সংবর্ধনা খেলাধুলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চাওয়া প্রতিটি মেয়ের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা শেষে তিন খেলোয়াড়ই ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।