দুর্যোগের মধ্যেও খেতুরীধামে ছিলো ভক্তের ঢল: যাতায়াত ও আবাসনের স্থায়ী সমাধানের দাবি
ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রেমভক্তির মহাজন শ্রীশ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুরের পুণ্যভূমি রাজশাহীর খেতুরীধামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মহামহোৎসবে এবার নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিগত ৫-৭ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম উৎসবাদির সময় ভারী বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত কাদার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থীকে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিবছরই এ উৎসবে অংশ নিতে এসে ভক্তদের কোনো না কোনোভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে এবার টানা বৃষ্টিতে পুরো ধাম এলাকা এবং প্রবেশপথগুলো কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের রাত্রিযাপনের পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশে বা ভিজে একাকার হওয়া স্থানেই অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের কাশি, জ্বর এবং চর্মরোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
ধামে আসা নিয়মিত একাধিক ভক্তের সাথে কথা বলে জানা যায়, যোগাযোগের মাধ্যম এবং অবস্থানস্থলের পরিবেশ নিরাপদ রাখা এখন সময়ের দাবি। এক ভক্ত জানান, "আমরা বছর খেতুরীধামে আসি। কিন্তু এবারের দুর্ভোগ অতীতের সব অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে গেছে।
যারা প্রথমবারের মতো এ ধামে এসেছেন, এই অব্যবস্থা দেখে তারা হয়তো পরবর্তীতে আর আসতে চাইবেন না। অথচ নরোত্তম দাস ঠাকুরের এ ধামের মাহাত্ম্য অপরিসীম।"
ভক্তরা আরও জানান, অন্ততপক্ষে ধামের প্রধান প্রবেশপথ, ভক্তদের যাতায়াতের রাস্তা এবং অবস্থান স্থলগুলো যেন কাদা-মাটিতে পরিপূরক না হয়, সে বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। স্থানগুলো মাটি দিয়ে উঁচু করা অথবা ইট-সুরকি বিছিয়ে অন্তত চলাচলের ও বসার পরিবেশ শুষ্ক রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ধাম কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
ভক্তদের এমন দাবির বিষয়ে খেতুরীধাম ট্রাস্ট ও উৎসব পরিচালনা কমিটির কর্তাব্যক্তিরা জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাময়িক এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ধামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থায়ীভাবে কাদা-মুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়টি তাদের ভাবনায় রয়েছে। আগামীতে যেন ভক্তদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে লক্ষ্যে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেতুরীধামের মহামহোৎসবে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়ায় ভক্তদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে মেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ধামের প্রবেশপথ ও প্রাঙ্গণ সচল ও শুষ্ক রাখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে স্থায়ী অবকাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অসুবিধা ও দুর্ভোগ সত্ত্বেও ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের কৃপা এবং ঠাকুর নরোত্তম ও পদ্মাবতীর করুণা লাভের আশায় সব কষ্ট সহ্য করেই ধাম পরিক্রমা ও মহোৎসবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন।