জীবনের সব পরিস্থিতিতে পড়ুন এই দোয়া
সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন। জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে।
কারণ, সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। তিনি কখনো বান্দাকে সুখ-শান্তি দিয়ে নিয়ামত দান করেন, আবার কখনো দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন কিংবা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
তাই সুখবর পেলে আল্লাহর প্রশংসা করা যেমন কর্তব্য, তেমনি দুঃখজনক পরিস্থিতিতেও তার ওপর ভরসা রাখা এবং তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা জরুরি।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) সব সময় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন এবং তার কাছেই সাহায্য চাইতেন।
আনন্দের সংবাদ পেলে আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। আবার অপছন্দনীয় বা দুঃখজনক কিছু ঘটলেও আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
আনন্দের সংবাদ পেলে যে দোয়া পড়বেন
আনন্দের বা পছন্দনীয় কোনো সংবাদ পেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে দোয়াটি পড়তেন, তা হলো—
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি বিনি‘মাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার নিয়ামতে ভালো কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
দুঃখজনক সংবাদ পেলে যে দোয়া পড়বেন
অপছন্দনীয় বা দুঃখজনক কিছু ঘটলে আল্লাহর প্রশংসা করার শিক্ষা রয়েছে। এ সময় পড়া যায়—
الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল।
অর্থ: সব অবস্থায় সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) পছন্দনীয় কিছু দেখলে প্রথম দোয়াটি এবং অপছন্দনীয় কিছু দেখলে দ্বিতীয় দোয়াটি পড়তেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮০৩)
এ ছাড়া আনন্দের সংবাদ পেলে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও উত্তম। কোনো বিশেষ নিয়ামত লাভের পর শুকরিয়ার সিজদা করার কথাও ইসলামী শিক্ষায় আলোচিত হয়েছে। তবে এসব আমলের বিধান ও পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
জীবনে সুখ আসুক কিংবা দুঃখ-প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহকে স্মরণ করা, তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং তার ওপর ভরসা রাখাই একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।