স্ত্রী থাকতে শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে
স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা বৈধ নয়। করলেও সে বিবাহ ‘বিবাহ’ হয় না এবং শালী তথা স্ত্রীর বোন ‘স্ত্রী’ হয় না। ইসলামী শরীয়তে আপন দুই বোনকে বিয়ে করা অর্থাৎ দুই বোন একসঙ্গে এক স্বামীর সঙ্গে সংসার করা জায়েজ নেই। এটা হারাম।
তাই এক বোন বিয়েতে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর আপন আরেক বোনকে বিয়ে করা জায়েজ নয়। বিয়ে করলে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। তবে এর কারণে প্রথম স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না। কিন্তু হারাম কাজ করার কারণে স্বামী গুনাহগার হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর দুই বোনকে একত্র (বিয়ে) করা (তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে)। তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৩)
উম্মু হাবীবাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমার বোন আবু সুফইয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন। তিনি বলেন, তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই এবং আমি যাকে সবচেয়ে ভালবাসি, তার সঙ্গে আমার বোনকেও অংশীদার বানাতে চাই। নাবীজি (সা.) বললেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১০৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘কোনো নারী এবং তার ফুফু। অনুরূপভাবে কোনো নারী এবং তার খালাকে একত্রে বিয়ে করা যাবে না।’ (বুখারি)
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, আপন দুই বোনকে একত্রে বিয়ে করা যাবে না। কেউ যদি এমন করে থাকে তাহলে তার দ্বিতীয় বিয়ে বিশুদ্ধ হবে না এবং স্ত্রীর বোনের সঙ্গে তার সংসার করাও জায়েজ হবে না। স্ত্রীর আপন বোনের সঙ্গে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
তবে যদি কোনো বোন মারা যায় তাহলে তার আপন বোনকে বিয়ে করা যাবে। কিন্তু এক সঙ্গে দুই বোন এক স্বামীর সংসার করতে পারবে না। ইসলামে এটি হারাম।