রাজশাহীতে সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ‘ভুল অস্ত্রোপচারের’ অভিযোগ
রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জয়নব বানু (২৯) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
জীবন বাঁচাতে রোগীর জরায়ু অপসারণ ও দফায় দফায় ১২ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জয়নব বানু রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর বেলা ১১টায় জয়নব বানুকে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার ‘কেয়ার নার্সিং হোম’-এ ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৪ টার দিকে ক্লিনিকটির পরিচালক ও চিকিৎসক শামীমা খাতুন তুলিকা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
এর পরই শুরু হয় বিপত্তি। অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হয়, যা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত সাড়ে ১০টায় তাঁকে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়।
রোগীর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক জরায়ু অপসারণের পরামর্শ দিলে স্বজনেরা তাতে সম্মতি দেন। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সর্বশেষ রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামী আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের কারণেই তাঁর স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছয় বছর আগে তাঁদের প্রথম সন্তানও সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিলেও এবার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে চিরতরে বাড়ি ফেরা হলো না জয়নবের।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শামীমা খাতুন তুলিকার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ৫ নভেম্বর সকালে কেয়ার নার্সিং হোমে গিয়েও তাঁর কক্ষ তালাবদ্ধ এবং ক্লিনিকটি রোগীশূন্য অবস্থায় দেখা যায়।
কেয়ার নার্সিং হোমের আরেক পরিচালক মো. কামরুজ্জামান দাবি করেন, রোগীর মৃত্যুর কারণ একমাত্র ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে স্বজনদের হট্টগোলে অন্য রোগীরাও ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। তবে এটিকে একটি ‘দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রসূতির পরিবারের কাছ থেকে কোনো বিল নেওয়া হয়নি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, “অস্ত্রোপচারের পর রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা তৈরি হলে রক্তপাত বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জয়নবের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কী জটিলতা হয়েছিল, তা কেবল অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। রোগীকে একদম শেষ মুহূর্তে আমাদের এখানে আনা হয়েছিল।
এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ভুল অস্ত্রোপচারের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।