শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন বেকেনবাওয়ার

Beckenbauer
অনলাইন ডেস্ক ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন খেলা
অনলাইন ডেস্ক ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন বেকেনবাওয়ার

শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার, জার্মান ও বায়ার্ন মিউনিখ কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ৮ জানুয়ারি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন কোচ ও অধিনায়ক হিসেবে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। মৃত্যুর পর বেকেবাওয়ারকে শেষ বিদায় জানাচ্ছে ফুটবল দুনিয়া। ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড়, কোচ ও সভাপতি বেকেনবাওয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলোকসজ্জায় সাজবে জার্মানির সবচেয়ে সফল ক্লাবের মাঠ মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারানা।

বাভারিয়ানরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাইজারের স্মরণে আগামী কয়েক দিন স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘ধন্যবাদ ফ্রাঞ্জ’ লেখা শব্দের সঙ্গে আলোকিত থাকবে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারানা। যা শেষ হবে আগামী শুক্রবার হোফেনহেইমের বিরুদ্ধে বায়ার্নের ম্যাচের দিন। ওইদিন থাকবে বিশেষ আলোকসজ্জা। ফুটবলার ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপজয়ী ইতিহাসের তিন ফুটবলারের একজন বেকেনবাওয়ার। অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপজয়ী মাত্র দুজনের একজন। বায়ার্নে বেকেনবাওয়ারের এক যুগের বেশি সময়ের সাফল্যমণ্ডিত খেলোয়াড়ি জীবন।

মিউনিখের দলটির হয়ে তিনি জিতেছেন চারটি লিগ শিরোপা। তার নেতৃত্বেই ১৯৭৪ থেকে টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয় করে বায়ার্ন। সবমিলিয়ে বায়ার্নের হয়ে তিনি খেলেন ৫৮২ ম্যাচ। পরে দুই মেয়াদে ছিলেন দলটির কোচ। তার কোচিংয়ে ১৯৯৪ সালে বুন্দেসলিগা, দুই বছর পর উয়েফা কাপ (এখনকার উয়েফা ইউরোপা লিগ) জেতে বায়ার্ন। আরও অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জনে সমৃদ্ধ বেকেনবাওয়ারের ক্যারিয়ার।

ফুটবলার ও কোচ হিসেবে আলো ঝলমলে ক্যারিয়ার তো ছিলই। তিনি আলাদা করে আলোকিত করেছেন প্রশাসক হিসেবে ও সংবাদমাধ্যমে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে। এমন আলোকিত মানুষের মৃত্যুতে কাঁদছেন ফুটবল দুনিয়ার অনেকে। এই যেমন ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের কোচ জার্গেন ক্লপ। কিংবদন্তির মৃত্যুর খবর ক্লপের জন্য অনেক বড় ধাক্কা। নিজেকে সামলে নিতে তাই একটু সময় লেগেছে তার। 

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ক্লপ বলেন, কাইজার এর চলে যাওয়া জীবনে প্রভাব রাখবে ভীষণভাবে। ভাঙা রেকর্ডের মতো কিছু বাজাতে চাই না আমি। কিন্তু তাকে ছাড়া এ পৃথিবী অন্যরকম হয়ে হবে; অন্ততপক্ষে আমার জন্য। তাকে আরেকটু ভালোভাবে জানার সুযোগ আমার হয়েছিল ২০০৫ কনফেডারেশন্স কাপ ও ২০০৬ বিশ্বকাপের সময়। ক্লপ আরও বলেন,  যেভাবে তিনি কাজ করতেন।

বড় হৃদয়ের একজন মানুষ। বন্ধুবৎসল, হাসিখুশি, সঠিক সময়ে সিরিয়াস। তিনি ছিলেন সত্যিকারের অনুপ্রেরণাদায়ী। তিনি যতটা ছিলেন, তার চেয়ে ভালো হওয়ার অভিনয় কখনই করেননি। তিনি সবসময় জানতেন তার সাহায্য প্রয়োজন; বিশেষ করে একজন কোচ হিসেবে। জীবনের পথে চলার শিক্ষাটাও বেকেনবাওয়ারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন লিভারপুলের জার্মান কোচ ক্লপ।

দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল জানিয়ে ক্লপ বলেন, তিনি আমাকে এমন কিছু শিখিয়েছিলেন, যেটা আমার জীবনের জন্য প্রয়োজন ছিল। বেকেনবাওয়ারের স্ত্রী হিল্ডির সঙ্গে ক্লপ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেটা স্মরণ করে তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে একটা ফোন পেয়েছিলাম যখন তিনি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু আপনারাও বুঝতে পারছেন তিনি খুব ভালো ছিলেন না। এখন তিনি ভালো জায়গায় আছেন।