মরণোত্তর দেহদান

অধ্যাপক সুভাষের কর্নিয়ায় চোখে আলো পেল দুজন

Professor Subhash Chandra Roy
অনলাইন ডেস্ক: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন শীর্ষ খবর
অনলাইন ডেস্ক: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
অধ্যাপক সুভাষের কর্নিয়ায় চোখে আলো পেল দুজন
অধ্যাপক সুভাষের কর্নিয়ায় চোখে আলো পেল দুজন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) মরণোত্তর দেহদান করেছেন সদ্য প্রয়াত নেত্রকোণা সরকারি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র রায়। এমনকি তার দেওয়া দুই কর্নিয়ায় চোখে আলো ফিরে পেয়েছেন সুবের আলী ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুই রোগী।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিএসএমএমইউয়ে জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ১৯ জানুয়ারি সিভিয়ার অ্যানিমিয়া স্ট্রোক ইরোসিভ গ্যাসট্রাইটিস সমস্যার কারণে সুভাষ চন্দ্র রায়ের স্বজনরা তাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে তিনি ২০ জানুয়ারি মারা যান। সুভাষ চন্দ্র রায় এবং তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের দুটি কর্নিয়া এবং আইবল দান করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সুভাষ চন্দ্র রায়ের প্রয়াত হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য তার দুটি কর্নিয়া সংরক্ষণ করেন। ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি অফথালমোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শীষ রহমান নেত্রকোনার ৬২ বছর বয়সী সুবের আলী নামের এক রোগীর চোখে একটি ও চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজশ্রী দাস পটুয়াখালীর ৫২ বছরের জাহাঙ্গীর আলম নামের এক রোগীর ডান চোখে সফলভাবে অপর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেন।

এনাটমি বিভাগে মরণোত্তর দেহদানের সময় দেহদানকারী সুভাষ চন্দ্র রায়ের বড় ছেলে তিতাস রায় এবং ছোট ছেলে পিয়াস রায়সহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সুভাষ চন্দ্র রায়ের মরদেহটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগে সংরক্ষণ, শিক্ষণ- প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের অনুমতিপত্রটি এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়।

মরদেহের এমবামিং প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর পরিচালনায় এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং এনাটমি বিভাগের শিক্ষক, কর্মচারী ও রেসিডেন্টদের অংশগ্রহণে মরদেহের যথোচিত সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য শপথ করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এই ধরনের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা এবং মরণোত্তর দেহদানকারী সুভাষ চন্দ্র রায়ের বড় ছেলে তিতাস রায় এবং ছোট ছেলে পিয়াস রায়সহ পরিবারের সবার প্রতি এই ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, নেত্রকোনার সরকারি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র রায় সচেতন নাগরিক ছিলেন। তাই তিনি মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন। তার দুটি কর্নিয়া বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে দুজনের চোখে প্রতিস্থাপন করে আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার পরিবারে অন্য চার সদস্যও এর আগে মরণোত্তর দেহদান করেছেন। তাদের মতো মানুষ সচেতন হলে ভবিষ্যতে অঙ্গ সংযোজনের সমস্যা থাকবে না।

উপাচার্য এসময় দেশের সব মানুষের প্রতি এমন মহৎ কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, সুভাষ চন্দ্র রায় (৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৩ - ২০ জানুয়ারি ২০২৪) ছিলেন একজন বাংলাদেশি স্থায়ী নাগরিক। তিনি মৃত্যুর পূর্বে বাংলাদেশ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে স্বজ্ঞানে, কারো প্ররোচনা ছাড়াই পরিবারের উপস্থিতিতে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেন। সুভাষ চন্দ্র রায়ের অপর চার সদস্যও এর আগে মরণোত্তর দেহদান করেছেন।