বিএনপি এবং সুশীলদের আরেকটি পরাজয়

জো বাইডেনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বীকৃতি

Letter from Joe Biden
অনলাইন ডেস্ক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:১৫ অপরাহ্ন শীর্ষ খবর
অনলাইন ডেস্ক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:১৫ অপরাহ্ন
জো বাইডেনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বীকৃতি
বিএনপি এবং সুশীলদের আরেকটি পরাজয়


অবশেষে জো বাইডেনের চিঠি এলো। জো বাইডেন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে ইন্দো প্যাসিফিক উন্মুক্ত অঞ্চল বিনির্মাণে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই চিঠির সুস্পষ্ট কূটনীতিক ব্যাখ্যা হল জো বাইডেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এই স্বীকৃতি দানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন যুগে প্রবেশ করল। 

গত প্রায় এক মাস ধরে এক ধরনের গুঞ্জন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা নিয়ে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন বারবার বলা হচ্ছিল যে বাংলাদেশের নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়নি। একই সাথে বিরোধীদের দমন পীড়ন বন্ধের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছিল, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কী অবস্থান ব্যক্ত করে সেটি ছিল একটি বড় প্রশ্ন বোধক?

৭ নির্বাচনের পর ১১ জানুয়ারি টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগের এই সরকার গঠনের পর বিভিন্ন দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। শুধু চীন, রাশিয়া, ভারত নয়, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলো নতুন সরকারকে এবং প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানায়। জাতিসংঘের মহাসচিবও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানায়। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাদ ছিল। অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে বর্তমান সরকারকে বৈধতা দিল এবং ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে বৈধতা না দেয়, বাংলাদেশের নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, সে জন্য বিএনপি এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ লবিং করেছিল। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বায়না ধরেছিল যে, শেষ পর্যন্ত যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনকে বৈধতা না দিয়ে যথাশীঘ্র স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচন করার জন্য আওয়াজ তোলে। এই আওয়াজ তুললেই বিএনপির আন্দোলন বেগবান হতে এবং সুশীলরা আবার মাঠে নামত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুশীল এবং বিএনপির সে লক্ষ্য পূরণ হল না। নানা বাস্তবতায় এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জো বাইডেন প্রায় একমাস পর এই চিঠি দিলেন। এই চিঠির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে কিনা, গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না ইত্যাদি সকল গুঞ্জনের অবসান ঘটল। পাশাপাশি এর মধ্য দিয়ে এখন বিএনপির আন্দোলনের দরজাও বন্ধ হয়ে গেল। কারণ গত দু বছর ধরেই বিএনপি আন্দোলন করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা নেয় তার ওপর। এই দুই বছর সময় ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র ইত্যাদি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ সরব ছিল। একাধিক মার্কিন কূটনীতিক বাংলাদেশ সফর করেছেন। তারা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান এবং এই নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হয় সেটি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। বিশেষ করে এই নির্বাচনে যদি সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করে, নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না তাহলে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও হুমকি ছিল। যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কম্বোডিয়া, নাইজেরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল ২৮ অক্টোবর নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে এক ধরনের নীরবতা পালন করছিল এবং নির্বাচনের মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য তৎপরতা দেখাচ্ছিলেন। বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন, অংশীদারিত্ব সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তারই ধারাবাহিকতায় জো বাইডেন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন। এর ফলে বিএনপি এবং সুশীলদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটল বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার