ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ মণ্ডপে বিদ্যার দেবীর আরাধনা

Worship of the Goddess of Knowledge in 76 Mandapams
অনলাইন ডেস্ক ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ন শিক্ষা
অনলাইন ডেস্ক ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ মণ্ডপে বিদ্যার দেবীর আরাধনা
সংগৃহীত ছবি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে ভগবানের জ্ঞান ও বিদ্যার রূপ হলেন দেবী সরস্বতী। প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যার দেবীর পূজা হয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সরস্বতীর পূজার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ৭৬টি মণ্ডপে অঞ্জলি দিয়ে বিদ্যার দেবীর পূজা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে জগন্নাথ হলের মাঠে বাণি অর্চনা, আরতি ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে সরস্বতীর আরাধনা করেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিবারের মতোই এবারও হলের খেলার মাঠের চারিদিক দিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা পূজার আয়োজন করেছে। ৭৬টি মণ্ডপের বেশির ভাগই বিভিন্ন বিভাগের থিমের আদলে গড়া। ফাইন্যান্স বিভাগ বেছে নিয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে আলোকসজ্জা ও আলপনার মাধ্যমে তুলে ধরার থিম এবং ইংরেজি বিভাগ বেছে নিয়েছে হাতে এঁকে মণ্ডপ সাজানোর পরিকল্পনা। ঐতিহ্যগতভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল এ পূজার মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। বরাবরের মতোই জগন্নাথ হলের পুকুরের মাঝে বসানোর জন্য দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরি করেছে চারুকলা অনুষদ।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুজিৎ বকশী সৌরভ বলেন, ইতোমধ্যে দুইবার অঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। অঞ্জলি দিতে পেরে ভালো লাগছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী বন্দ্যোপাধ্যায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পূজার থিম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শুধু থেমে থাকা কলম কিংবা পোড়া সংবাদপত্রের কথা বলিনি। কথা বলতে চেয়েছি সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে। হরিজন থেকে রক্ত জল করে জীবনের শেষ জীবনীশক্তি নিংড়ে দেওয়া চা শ্রমিক, যে যোগ্য মজুরিটুকু পান না কিংবা প্যালেস্টাইলে ভাঙা ধ্বংসস্তুপে পড়ে থাকা নিষ্পাপ শিশুর লাশ। সবকিছুকে ঘিরে একটা বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। যুদ্ধ না, শান্তি। মব নয়, সুবিচার।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হল প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন কমিটি গণমাধ্যমকে জানায়, শুক্রবার প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে এবারের সরস্বতী পূজার আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হবে। তবে প্রতি বছর পূজোর আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হলেও এবার তা দেখা যায়নি। হলের প্রাধ্যক্ষ ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এবার সময় স্বল্পতার কারণে সংবাদ সম্মেলন করতে পারিনি। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবং পূজায় বড় বিলবোর্ডের মাধ্যমে সব নির্দেশনা জানানো হয়েছে।