অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, ভস্মিভুতু ১৪ গবাদি পশু
নাটোরের গুরুদাসপুরে ভোররাতে অগ্নিকাণ্ডে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। রোববার(৯ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের রান্টুর বাড়িতে ওই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, গোয়ালঘরে রাখা কয়েল থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। প্রতিবেশীদের চিৎকার-চেঁচামিচিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুম ভাঙে। এ সময় রান্টুর স্ত্রী আতিয়া (২২) দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। বড় ছেলে এলাহীকে (৯) প্রথমে টেনে বের করে আনতে সক্ষম হলেও ছোট মেয়ে রওজাকে (১) রক্ষা করতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে বাঁচতে খাটের নিচে আশ্রয় নেন। পরে সেখানেই মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃতু্ হয়।
এ ঘটনায় রান্টুর মা মনেকা বেগম (৫৫) গুরুতর দগ্ধ হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। এঘটনায় আহত হয়েছেন গৃহকর্তা রান্টুও। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের আত্মিয় আল্পনা বেগম জানান, আগুনে পুড়ে তারসহ , শ্বশুর ও দেবরের তিনটি বসতঘর, গোয়াল ও রান্নাঘর পুড়ে গেছে।এছাড়া প্রতিবেশী মিকজার আলী প্রামাণিকের মুদিদোকান ও একটি ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এ ছাড়া ঘরের আসবাবপত্র, ঘরে রক্ষিত ফসলাদি, ১২টি ছাগল, ২টি গরু আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে আহাজারি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষণিক ৪০ হাজার টাকা নগদ অনুদান প্রদান, শুখনা খাবার ও কম্বল দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ঘর নির্মানে তাদের ঢেউটিনসহ ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতা করা হবে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।