ইরান যুদ্ধের আঁচ লাগেনি স্বর্ণের বাজারে

gold price
অনলাইন ডেস্ক ১৮ মার্চ ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ন অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক ১৮ মার্চ ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ন
ইরান যুদ্ধের আঁচ লাগেনি স্বর্ণের বাজারে
ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাজারে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। __সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাজারে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। শেয়ারবাজারও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিন্তু অনিশ্চিত সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৫ হাজার ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ছিল প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১ দশমিক ৩৬ ডলার। আর এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫ দশমিক ২০ ডলারে।

চরম ভূরাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এই স্থবিরতাকে বিস্ময়কর বলে ব্যাখ্যা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কারণ অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্বর্ণে ঝুঁকেন, ফলে সাধারণত এর দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংঘাতের সময় এ প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানো বন্ধ করতে পারে। আবার মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে তা বাড়াতেও পারে।যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জেমস মিডওয়ে বলেন, এতে ডলারে বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, আর সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা করছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দাম নিয়ে এখন ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। মিডওয়ে জানান, স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন আনতে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ফেডারেল রিজার্ভ যদি ইঙ্গিত দেয় যে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও সুদের হার আরও কমানো হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ইরান যুদ্ধের স্থায়িত্ব। বর্তমানে অনেকেই মনে করছেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, তবে এটি দীর্ঘায়িত হলে এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়লে স্বর্ণ আবারও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।