পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বদলগাছীতে ৩ হাজার টাকার মোবাইল উদ্ধার করতে ৪ হাজার ঘুষ দাবি!

4,000 bribe demanded to recover mobile phone
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪২ অপরাহ্ন
বদলগাছীতে ৩ হাজার টাকার মোবাইল উদ্ধার করতে ৪ হাজার ঘুষ দাবি!
বদলগাছীতে ৩ হাজার টাকার মোবাইল উদ্ধার করতে ৪ হাজার ঘুষ দাবি! পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। ছবি: বিজয় বাংলা

নওগাঁর বদলগাছীতে হারিয়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাত্র তিন হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে বদলগাছী থানার এক উপ-পরিদর্শক তার কাছে চার হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


জানা যায়, গত রোববার (১৫ মার্চ) বদলগাছী থানার উপ-পরিদর্শক আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। বুধবার (১৮ মার্চ) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।


ভুক্তভোগী বিউটি বেগম (৪০) জানান, গত বছর ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোড়শাহী গ্রামের নিজ এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত একটি রিয়েলমি সি-৩০ মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


তিনি বলেন, “প্রায় এক বছর পার হলেও মোবাইলটি উদ্ধার হয়নি। হঠাৎ গত রোববার থানার এসআই আজিজার রহমান ফোন করে আমাকে থানায় যেতে বলেন। সেখানে গেলে তিনি জানান, মোবাইলটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছে, তবে উদ্ধার করতে ৪ হাজার টাকা লাগবে।”


তিনি আরও বলেন, “তিন হাজার টাকার মোবাইল উদ্ধার করতে যদি চার হাজার টাকা দিতে হয়, তাহলে নতুন মোবাইল কেনাই ভালো। এই কথা বলেই আমি থানা থেকে চলে আসি।”


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “এক বছরের পুরনো মোবাইলটির বর্তমান মূল্য প্রায় তিন হাজার টাকা। অথচ সেটি উদ্ধার করতে তার চেয়েও বেশি টাকা দাবি করা হয়েছে। হারানো জিনিস ফেরত পেতেও যদি ঘুষ দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক আজিজার রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এখনো মোবাইলটি উদ্ধার করতে পারিনি। অন্য কেউ এমন কথা বলে থাকতে পারে। আমার কাছে ওই জিডিও নেই, ফোনও নেই।


এদিকে, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, হারানো মোবাইল উদ্ধারে বর্তমানে এএসআই বা এসআইদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।তবে ভুক্তভোগীকে থানায় ডাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য কোনো কারণে ডাকা হয়ে থাকতে পারে।


এ বিষয়ে একই গ্রামের ব্যবসায়ী তরিকুল বলেন, মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ন্যায়বিচার ও সহায়তা প্রত্যাশা করে। কিন্তু মোবাইল উদ্ধারের মতো ঘটনায় যদি ঘুষের অভিযোগ ওঠে, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।


এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।