মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে জামালপুরের কাঁচামরিচ

Jamalpur's raw chilies are being exported to Malaysia
বিজয় বাংলা ২৩ মার্চ ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন কৃষি
বিজয় বাংলা ২৩ মার্চ ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে জামালপুরের কাঁচামরিচ
---- সংগৃহীত

জামালপুরে উৎপাদিত কাঁচামরিচ এখন বিদেশের বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হচ্ছে কাঁচামরিচ। স্থানীয় কৃষকরা তুলনামূলক বেশি দাম পাচ্ছেন। এতে কৃষকদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। 


জামালপুরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সবুজ মরিচের গাছ। চরাঞ্চলের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফলানো মরিচ তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবার মরিচের আবাদ ও ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে স্থানীয় বালিজুরি ও হাইব্রিড জাতের মরিচ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় তুলনামূলক ভালো দাম পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে আছেন চাষিরা।


জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজারে প্রতিদিন দুপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্ম ব্যস্ততা। মাঠ থেকে প্রতি কেজি মরিচ চলমান বাজার দর থেকে ৪-৫ টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করেন পাইকাররা। পরে মোরকজাত করে চট্টগ্রাম পোর্ট দিয়ে পাঠানো হয় মালেয়শিয়াতে। প্রতি কার্টনে থাকে নয় কেজি মরিচ।


এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ৭০০ মেট্রিক টন মরিচ রপ্তানি হয়েছে। সাধারণ বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২৮ টাকা হলেও বিদেশের বাজারের জন্য প্রতি কেজি মরিচের দাম দেওয়া হচ্ছে ৩৪ টাকা। এতে জামালপুরের কৃষকরা এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।


মরিচ রপ্তানি হওয়ায় দেশে আসছে ডলার, আর প্রান্তিক কৃষক দেখছেন লাভের মুখ। মালয়েশিয়ার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সঠিক মানের মরিচ দেওয়া গেলে এই পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। 


কৃষক জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ বছর আমাগো ভালো উৎপাদন হয় নাই। বৃষ্টিতে গাছ মরে গেছে, তবে দাম এখন একটু ভালো যাচ্ছে। এখন আবার শুনতাছি বিদেশে বলে রপ্তানি হবো, তাহলে তো আমাদের জন্য ভালোই হবো, দাম পাবো এখন একটু।’


আরেক কৃষক সাত্তার মিয়া বলেন, ‘বিদেশে গেলে তো আমাদেরই ভালো। আগে গেছিলো আবার বন্ধ হয়ে গেছিলো। তখন দাম কমে গেছে। এখন যাইতেছে, আমাদের ন্যায্য দাম আমরা পাবো এখন।’


কৃষক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দিনে দিনে সারের দাম বাইরা যাইতেছে, ফলন বেশি না হলে খরচও ওঠে না, এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দামও মোটামুটি হয়তাছে খরচ উঠবো ইনশাআল্লাহ এবার।’


এই সম্ভাবনাময় ফসলের বাজার আরও বড় করতে কৃষকদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সহায়তার করার কথা জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান। 


তিনি বলেন, মালয়েশিয়াতে কিছু কোম্পানির মাধ্যমে আর কিছু এক্সপোর্টের মাধ্যমে মাদারগঞ্জ আর জামালপুর থেকে মরিচ রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে আমাদের কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। লোকাল বাজার থেকে তিন থেকে চার টাকা বেশিতে কিনে নিচ্ছেন এক্সপোর্টার। আবার তারা যে বিদেশে বিক্রি করছেন, তারা দেশে ডলার আনছেন। যাতে কৃষকের পণ্যটা মানসম্পন্ন, গুনগত এবং এক্সপোর্টেবল হয়, সেই বিষয়গুলো আমরা কৃষি বিভাগ থেকে দেখবো।


জেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন।