মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকে আদালতের জরিমানা

Court fines BNP leader
আবুল কালাম আজাদ ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৩৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকে আদালতের জরিমানা
রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট দিতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে একমাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় কারাভোগ করা দুই আসামিকে জরিমানার অর্থ প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১২ এপ্রিল)দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন নগরের বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মহানগর পুলিশের দামকুড়া থানায় সাজ্জাদ হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন কসবা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি ও মারধর করা হয়। এ মামলায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বাদলসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।

তবে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন সাজ্জাদ হোসেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। ফলে তার করা মামলার বিবরণ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালতের পরিদর্শক  রফিকুল  জানান, ঘটনার তারিখে কারাগারে অবস্থান করেও বাইরে হামলার অভিযোগ এনে মামলা করায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করেন। তিনি আরও জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা দুই আসামি জরিমানার অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি জমা দিতে হবে। অন্যথায় মামলার বাদীকেই একমাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে কারাভোগ করতে হবে।

মামলাটি মিথ্যা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তিনি বলেন, তিনি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে ছিলেন এবং মামলা করার সময় বিষয়টি মনে ছিল না। আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি মিথ্যা ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।