ইউজিসি চেয়ারম্যান

বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়

বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়
বিজয়বাংলা শিক্ষা ডেক্স : ০৯ মে ২০২৬ ০৮:১২ অপরাহ্ন শিক্ষা
বিজয়বাংলা শিক্ষা ডেক্স : ০৯ মে ২০২৬ ০৮:১২ অপরাহ্ন
বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়
__সংগৃহীত ছবি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এমন একটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬’-এর আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। তবে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মিক বন্ধন অটুট রয়েছে। দেশে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে বিদেশে অবস্থানরত মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ দেশের প্রয়োজনে যেকোনো সময় অবদান রাখতে পারে। মেধা পাচার নয়, বরং মেধার সার্কুলেশন নিশ্চিত করা জরুরি।

মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে টেকসই ও ফলপ্রসূ সহযোগিতা গড়ে তুলতে ইউজিসি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চশিক্ষার মান সত্যিকার অর্থে উন্নত করতে হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগামী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে চীনের উচ্চশিক্ষা খাতে যে অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে, তা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে আগ্রহী। বিশেষ করে আধুনিক ল্যাবরেটরি অবকাঠামো, যৌথ গবেষণা তহবিল এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ক্ষেত্রে ইউজিসি আরও গভীর সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা করে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, পিএইচডি গবেষকদের জন্য দ্বৈত তত্ত্বাবধান এবং উচ্চমানের জার্নালে যৌথ গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক অধ্যাপক ড. লিয়া পেং, হুয়াঝং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন তান গাংই, গুয়াংডং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেড ভোকেশনাল কলেজের প্রেসিডেন্ট ঝাং শিয়াওইয়ান এবং চায়না এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হান কুন।