ঢাবিতে চালু হতে যাচ্ছে টিচার ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের একাডেমিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টিচার অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা টিএ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা আরএ কার্যক্রমও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, টিউটোরিয়াল, পরীক্ষা প্রস্তুতি, গবেষণা প্রকল্প ও একাডেমিক সহায়তামূলক কাজে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দক্ষতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষক মূল্যায়নের সুযোগও পাবে শিক্ষার্থীরা।
ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, কয়েক মাস আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে টিএ ও আরএ চালুর জন্য আবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির কাছে ইউরোপের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতিমালার আলোকে একটি মৌলিক প্রস্তাবনা জমা দেন তিনি।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা প্রকল্পের ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ থাকলেও তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। আর টিচার অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কখনোই নিয়মিত কাঠামোর অংশ ছিল না। অথচ বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিএ ও আরএ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও জানান, গঠিত কমিটি টিচার অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করেছে। গত সপ্তাহে ডিনস কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয় এবং নীতিগতভাবে এটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমাদের এখানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা বা শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা নিতে চায়। কিন্তু সেই সুযোগটা এতদিন ছিল না। টিচার ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালু হলে আমরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারব এবং এ সুযোগ ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের জন্য অনেক কাজে দেবে।
ডাকসু নেতারা জানান, প্রস্তাবনায় টিএ নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা ও বিভাগীয় সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি টিএদের দায়িত্বের মধ্যে টিউটোরিয়াল নেওয়া, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহায়তা দেওয়া, ল্যাব বা সেমিনার পরিচালনায় সহায়তা করা এবং কোর্স–সংশ্লিষ্ট কাজের প্রস্তুতিতে শিক্ষকদের সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
আর এ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহ, সাহিত্য পর্যালোচনা, ডেটা বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের কাজ, প্রতিবেদন প্রস্তুতি ও গবেষণাপত্র তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ডিনস কমিটির সভায় টিচার অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই কমিটি নিয়োগের যোগ্যতা, দায়িত্ব, কাজের সময়, সম্মানী, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও তদারকি কাঠামো নির্ধারণ করবে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ‘টিএ’ ও ‘আরএ’ চালু হলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও অর্থবহ হবে।
এ প্রসঙ্গে ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করি, খুব দ্রুতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচার অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালু হবে। এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে একাডেমিক ও গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। আমরা আগামী অর্থবছরকে টার্গেট করে এ প্রস্তাবনা দিয়েছি যাতে এ উদ্যোগের জন্য বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, “এটা নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির কাজ প্রক্রিয়াধীন। আমি এই কমিটিতে নেই, তাই বিস্তারিত জানি না। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ফান্ডিংয়ের বিষয় আছে। প্রস্তাবনা এসেছে, কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, কাদের সুযোগ দেওয়া হবে, কোন প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে, কারা পাবেন, এর নীতিমালা কী হবে, এসকল বিষয় বিবেচনা করতে হবে।