কারো বিপদে আনন্দিত হওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ

Rejoicing in someone's misfortune is forbidden in Islam
অনলাইন ডেস্ক ০৩ মে ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন ধর্ম
অনলাইন ডেস্ক ০৩ মে ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
কারো বিপদে আনন্দিত হওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ
--সংগৃহীত ছবি

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও বিপদে পড়া দেখে অনেকে হাসাহাসি করে, মিম বানায়, কমেন্টে ‘কর্মফল’ বলে উল্লাস করে। কেউ চাকরি হারালে, কেউ অসুস্থ হলে, কেউ সম্পর্কে সমস্যায় পড়লে অনেকের মনে একটা গোপন আনন্দ জেগে ওঠে। ‘ওর তো এটা হওয়ারই কথা ছিল’—এমন চিন্তা করে আনন্দিত হয়। কিন্তু এই আনন্দ আসলে বিষাক্ত। ইসলামে কারও বিপদে আনন্দিত হওয়া কঠিনভাবে নিষিদ্ধ।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করো না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করে তোমাকে বিপদে ফেলতে পারেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫০৬)

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, কারও দুর্ভোগ দেখে হাসাহাসি করলে নিজের পায়ে কুড়াল মারা হয়। আল্লাহ রহমানুর রহিম; তিনি দয়া করতে ভালোবাসেন। যে ব্যক্তি অন্যের বিপদে দয়া দেখায় না, তার প্রতি আল্লাহর দয়া কমে যেতে পারে।

কোরআনেও এই শিক্ষা আছে। আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন যে, ‘তারা নিজেদের মধ্যে দয়ার্দ্র’। (সুরা ফাতহ, আয়াত : ২৯)। সুরা হুজুরাতে আল্লাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১০)। এক ভাইয়ের বিপদে আরেক ভাই আনন্দ করবে কী করে?

অনেকে বলে, ‘ও তো খারাপ কাজ করেছে, এটা তার শাস্তি।’ কিন্তু বিচারের মালিক আল্লাহ। আমরা কি জানি কার গুনাহ কত? হয়তো ওই ব্যক্তি কখনো খাঁটি মনে তওবা করবেন এবং তার তওবা আমাদের সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম হিসেবে গণ্য হবে আল্লাহর কাছে। নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা অনুসারে, মৃতের ভালো গুণের কথা বলতে হবে, খারাপ চেপে যেতে হবে, জীবিতের বিপদে তো আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

অন্যের বিপদে আনন্দ পাওয়ার বিষয়টি মূলত হিংসা থেকে জন্ম নেয়। নবীজি বলেছেন, ‘আর হিংসা ঈমান খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠ খেয়ে ফেলে।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৩)

যে কারও বিপদে হাসে, তার নিজের বিপদ আসতে দেরি হয় না। জীবনে কত উদাহরণ দেখা যায়, যে অন্যের পতনে হেসেছে, কিছুদিন পর নিজেই পড়েছে।

তাই পরের বিপদ দেখলে হাসব না, বরং দোয়া করব, ‘আল্লাহ ওকে হেদায়াত দিন, কষ্ট লাঘব করুন।’  নিজের জন্যও দোয়া করব যেন এমন বিপদ থেকে বাঁচি। কারণ মুমিনের দোয়া অন্য মুমিনের জন্য কবুল হয়। আর যদি কেউ সত্যিই খারাপ কাজ করে থাকে, তাহলে তার জন্য হেদায়াতের দোয়া করাই সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ।

লেখক: মুহাদ্দিস ও ইসলাম বিষয়ক গবেষক