রাজশাহী সিটি পশুহাটে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া! ভোগান্তিতে ক্রেতা

Despite revenue of crores of taka being collected at the livestock market, there has been no development
আবুল কালাম আজাদ ০৪ মে ২০২৬ ০৪:৪৯ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ ০৪ মে ২০২৬ ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
রাজশাহী সিটি পশুহাটে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া! ভোগান্তিতে ক্রেতা
রাজশাহীর সর্ববৃহৎ পশুর হাট সিটি বাইপাস পশুহাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি,ফলেক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও রাজশাহীর সর্ববৃহৎ পশুর হাট সিটি বাইপাস পশুহাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি,ফলেক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খরা-বর্ষায় নানা ধলোবালি ও  কার্দময়সহ নানাঅসুবিধার মধ্যেই এই হাটে হচ্ছে পশু কেনা-বেচা।

রাজশাহীর সিটি বাইপাস পশুহাটের সুনাম দেশজুড়ে। পশু কেনা-বেচাকারি তো বটেই সাধারণ মানুষও এই হাট সম্পর্কে কমবেশী জানেন। এই হাটটি একেবারে রাস্তার পাশে হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার লেন-দেন ও পরিবহনসহ সার্বিক সুবিধা শতভাগ। তবে হাটের ভিতরে অবস্থানকালে নানা অসুবিধা দেখা দেয়। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ইজারাদারেরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

রোববার(৪ মে) সিটি হাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানে কোন গণশৌচাগার নেই। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই রাস্তা ঘাট। এমনকি নামাজ পড়বার মত তেমন কোন মসজিদ পর্যন্ত নেই। এখানেই শেষ নয়- নেই খোদ ইজারাদারদের অফিস ঘর, ছাড়ঘর (হাছিল ঘর), বসার কোন জায়গা। হাটের মধ্যে নেই গাছ। আবার সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে যায়, পুরো বর্ষা মৌসুমে কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

মোহনপুর এলাকার পশু কেনা-বেচা সমন্বয়কারি (দালাল) ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার দেখা ও জানা মতে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আমাদের সুনামধারী এই সিটি বাইপাস পশুহাট। এই হাটের জন্মলগ্ন থেকেই আমি যাতায়াত করি। খরা-গ্রীষ্ম-বর্ষা সবই দেখেছি। ব্যবসার কাজে অনেক পশুহাট ঘুরে থাকি। তবে এই হাটের মত কষ্ট অন্যহাটে হয় না। বড় পরিতাপের বিষয়-এখানে নামাজ পড়ার ভাল কোন মসজিদ নাই। আবার গণশৌচাগারও নাই। অনেক সময় বেগতিক অবস্থায় পড়তে হয়। অথচ এই হাট থেকেই সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাই। এই হাটের বয়স প্রায় দেড়যুগ হলেও কোন উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে’।

পাশে থাকা আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, এই হাটে স্বাস্থ্যঝুকি নিয়ে চলতে হয়। ধুলোবালি থেকে মুক্তি পেতে বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার থাকলেও তা মানা হয় না। আর দুর্গন্ধযুক্ত সিটি ভাগাড়ের উপরই কর্দমাক্ত পরিবেশেই বসেছে হাট। খরার সময়ে ধুলা-বালিতে হাঁচি কাশি, আর একটু বৃষ্টি হলেই গোবরসহ রাসিকের তেজষ্ক্রিয়যুক্ত ময়লা মাটিতে ভরে যায় পুরো হাট। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবায়কে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে হয়।

আবার এই বিপাক বিড়ম্বনা ও হয়রানির সব ক্রোধ-ক্ষোভ পড়ে ইজারাদারের ঘাড়ে। একজন বলেন, একটা গরু কিনলে ইজারাদারকে ছাড়ের টাকা গুনতে হয়। এই হাটে লাখ লাখ গরু কেনা-বেচা হয়। বছরে কোটি কোটি টাকা সরকার পাচ্ছে। তবু আমাদের একদিকে প্রচন্ড রোদ এবং অন্যদিকে একটু বৃষ্টিতেই কাঁদাপানিতে থাকতে হয়।

নমির উদ্দিন নামের একজন বলেন, এই হাটের উন্নয়ন না হলেও অনেকের জীবনের উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, জানা মতে হাট ডাকের মোট টাকার ৩০ শতাংশ টাকা হাটের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা থাকলেও তিন শতাংশও করেনি। তিন শতাংশও যদি হতো-তবে মসজিদটার অবস্থা এমন থাকতো না। রাস্তা-ঘাট ভাল হতো-এমনকি হাটের কলেবর (পরিধি-বড়) বাড়ানো যেত।

এবারে এই সিটি বাইপাস পশুহাটের ইজারা মূল্য প্রায় আট কোটি সাত লাখ। যা ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে প্রায় ১০ কোটি আট লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এতো রাজস্ব পেয়েও এই হাটে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ক্রেতা-বিক্রেতা। শুধু এখানে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষি আর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মশা-মাছি।

ক্রেতা-বিক্রেতার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইজারাদার শওকত আলী নিজেই বিব্রত। তিনি বলেন, আমি খুবই চিন্তিত ও মর্মাহত। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। একটু বৃষ্টি হলেই হাটে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখন বেচা-কেনাও কম হয় এবং আয়ও কম হয়।

তিনি অনেক কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি বলেন, গণশৌচাগার, রাস্তা, মানসম্মত মসজিদ, ভাল অফিসঘর, হাছিল ঘর খুবই জরুরী। আপনারা বলছেন যখন, তখন আমি নিজেও কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানাবো।