গৃহকর্মী থেকে ইতিহাস গড়ে বিধায়ক হলেন কলিতা মাজি
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন রাজ্য রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে রইল। একদিকে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, অন্যদিকে এক সাধারণ শ্রমজীবী নারীর সংগ্রামের গল্প ছুঁয়ে গেছে মানুষের হৃদয়।
মাসে মাত্র আড়াই হাজার টাকায় অন্যের বাড়িতে কাজ করা কলিতা মাজি আজ আউশগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক, যা নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের শক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
ভোট পেয়েছেন লাখের বেশি
পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভা এলাকার বাসিন্দা কলিতা মাজি রাজনীতিতে আসার আগে চারটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সেই সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি এবারে এক লাখ সাত হাজার ৬৯২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন- গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন।
২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে সেবার তৃণমূল প্রার্থী অভেদানন্দ থান্ডারের কাছে পরাজিত হন। তবুও দল তার প্রতি আস্থা হারায়নি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ফের তাকে প্রার্থী করে, আর কলিতা মাজি সেই আস্থার মর্যাদা রাখলেন জয়ের মধ্য দিয়ে।
গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল জোড়াফুল
কলিতা মাজির ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি গোটা রাজ্যজুড়েই দেখা গেছে গেরুয়া ঝড়। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসন জিতে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ এমন এক দলের শাসনে আসতে চলেছে, যারা কেন্দ্রেও ক্ষমতায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঐতিহাসিক জয়কে অভিহিত করেছেন ‘বাংলায় পদ্ম প্রস্ফুটন’ হিসেবে।
হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
এই নির্বাচনের ফল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফল ঘোষণার পর তিনি ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ‘প্রত্যাবর্তনের’ ডাক দিলেও, রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ইতোমধ্যেই এক বড় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যের রান্নাঘর সামলানো থেকে রাজ্যের আইনসভায়, কলিতা মাজির এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবে বাংলা।
সূত্র: কলকাতা২৪