তানোরে পানি সংকট ও জলবায়ুর প্রভাব পর্যবেক্ষণে ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি ফোরামের মাঠ পরিদর্শন

Water crisis and climate impact
ছোটন সরদার ০৬ মে ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
ছোটন সরদার ০৬ মে ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন
তানোরে পানি সংকট ও জলবায়ুর প্রভাব পর্যবেক্ষণে ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি ফোরামের মাঠ পরিদর্শন
তানোরে পানি সংকট ও জলবায়ুর প্রভাব পর্যবেক্ষণে ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি ফোরামের মাঠ পরিদর্শন

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পানি সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি পর্যবেক্ষণে দিনব্যাপী মাঠ পরিদর্শন করেছে ডাসকো ফাউন্ডেশনের গেটকা প্রকল্পের ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি ফোরাম। বুধবার (৬ মে) এ পরিদর্শনে স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা শোনা, তাদের চাহিদা ও অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সকাল ১১টার দিকে কামারগাঁ এলাকার শিবনদী পরিদর্শন করেন ফোরামের সদস্যরা। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তারা। স্থানীয় এক নারী দোকানি, শ্রীমতি রানী বলেন, “এক সময় এই নদীতে ট্রলার চলত, এখন পানি না থাকায় তা কল্পনাও করা যায় না।অথচ আমি আমার আত্নীয় বাড়ি নাটোরে এখান থেকে ট্রলারে যাতায়াত করেছি,

এরপর দুপুর ১২টার দিকে ১ নম্বর কলমা ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি ও কলমা ইউনিয়ন লোকমর্চার সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী চৌধুরী (বাবু) বক্তারা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশের ২৫ টি উপজেলা ও শতাধিক ইউনিয়নকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। তানোরও সেই সংকটের তীব্রতা অনুভব করছে। পানি সংকটের কারণে কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এক কৃষক জানান, আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ধানের ফলন ২০ মণ হতো, এখন তা কমে ১২ মণে নেমে এসেছে।

এরপর দুপুর সাড়ে তিনটায়  উচাডাঙ্গা গ্রামে বাধাইড় ইউনিয়ন লোকমর্চা সাথে মতবিনিময় হয়,তারা বলেন  ডাসকো ফাউন্ডেশন এই এলাকায় পকুর সংস্কার, পূর্নখনন করে দেয় সেই পকুর সরকার বিভিন্ন মানুষের কাছে লিজ দেয়ায় এখন আর সেই পুকুরের পানি ব্যবহার করতে দেয় না।

ডাসকো ফাউন্ডেশন  তিনিটি সাব মার্চিপুল করে  দেয়ায় ২৫০ টি পরিবার  পানি ব্যবহার করে,পাশেই হঠাৎ পাড়ায় ১৫ টি পরিবার থাকলেও নেই পানির ব্যবস্থা,এক- দেড় কিলোমিটার দূরে গুচ্ছগ্রাম থেকে পানি নিয়ে এসে খাবার পানি সরবরাহ করেন।

এই অঞ্চলে চারটি সরকারি ডিপ রয়েছে সেগুলো পানির লেয়ার না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে।একজন কৃষক বলেন এলাকায় প্রভাবশালীরা এসে পাঁচ হাজারের বর্গা জমি ২০-২৫ হাজারে লিজ নিয়ে বাগান করছে এবং তারা ঠিকই পানি পাচ্ছে,অথচ আমরা সাধারন কৃষক পানি পাচ্ছি না।

এ সময় আরও জানানো হয়, এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে, আগে ১৫০ মিটার গভীর নলকূপে পানি পাওয়া গেলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে তা অপ্রতুল, তানোরের মুন্ডুমালা অঞ্চলে বর্তমানে ২৫০ মিটার গভীর পাইপ ব্যবহার করে পানি উত্তোলন করছে,অনিয়ন্ত্রিত ভাবে সাবমার্চিপুল মটর স্থাপন করা হচ্ছে,এটা মনিটরিং করা প্রয়োজন এবং নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা  নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে পানি সংকটের চরম দূর্ভোগে পড়তে হবে।

মাঠ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার মুক্তি, ডাসকো গেটকা প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী মদন দাসসহ ফোরামের সদস্য বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, জাহাঙ্গীর আলম, ছোটন সরদার, হরিলাল (হেলা) বাবু, সোহেল রানা ও বিশাল চৌধুরী,ফোরামের সদস্যরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পরিকল্পনা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।