অতিরিক্ত লবণে শরীরে বাসা বাঁধছে এক নীরব ঘাতক

Excess salt is a silent killer that takes up residence in the body
অনলাইন ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন স্বাস্থ্য
অনলাইন ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন
অতিরিক্ত লবণে শরীরে বাসা বাঁধছে এক নীরব ঘাতক
--সংগৃহীত ছবি

উচ্চ রক্তচাপে প্রতি বছর বিশ্বে ১ কোটিরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। এ সংখ্যাটা সকল সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশেও উচ্চ রক্তচাপের নীরব মহামারি চলছে। নীরব এই ঘাতক রোগে প্রতিদিন বাংলাদেশেও প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত মানুষ।

উচ্চ রক্তচাপের ফলে অনেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এতে মৃত্যু বহুগুণ বাড়ছে।

উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচার উপায় এবং এ রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট রেজাউল করিম রাজা।

উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচতে প্রথমেই খাবারে লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাশাপাশি তারা প্রচুর শাকসবজি খাওয়া, দিনে কমপক্ষে আধ ঘণ্টা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম, পরিমিত ঘুম, মোবাইল ফোনে আসক্তি পরিহার, ধূমপান-তামাক সেবন বাদ দেওয়া, মানসিক চাপ বা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে বলেছেন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ডা. আবু জামিল ফয়সাল গণমাধ্যমকে বলেন, উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই আমাদেরকে খাবারে লবণ কম খেতে হবে, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে হবে।

প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা শারীরিক পরিশ্রম কিংবা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এখন অনেকেই মোবাইল ফোনের আসক্তিতে রাত জাগে, প্রয়োজনের তুলনায় কম সময় ঘুমায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়ায় অনেকেই মানসিক উত্তেজনা বা চাপে থাকে। ধূমপানের কারণেও উচ্চ রক্তচাপ হয়, তাই ধূমপান কিংবা তামাকপণ্যের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে কি না তা বোঝার উপায় নিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, কারও যদি মাথা ও ঘাড় ব্যথা হয়, মাথা ঘুরায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করা দরকার। উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, কারও যখন উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়, তখন ওষুধ খেয়ে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে কিছুটা কমে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সারাজীবন ওষুধ খেতে হয়।

তিনি বলেন, একদিকে প্রতিরোধ, আরেকদিকে চিকিৎসা নিতে হবে। দেশের প্রায় প্রতি চারজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। বিপদের কথা এদের অধিকাংশই জানে না, তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। যারা জানে তাদের আবার অর্ধেকেই ওষুধ খাচ্ছে না।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এই অধ্যাপক আরও বলেন, দেশে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তের একটা গ্যাপ আছে, আবার যাদের শনাক্ত হচ্ছে, তাদেরকেও সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের অনেকের রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।

গণহারে উচ্চ রক্তচাপের স্ক্রিনিং; শনাক্ত রোগীদের সারা জীবন ওষুধ খেতে হয় এবং এটা অনেক ব্যয়বহুল, আবার ওষুধ না খেলে রোগটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, তাই সরকারকে যাদের সামর্থ্য নাই তাদেরকে বিনা পয়সায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং ওষুধ দেওয়ার পর রোগীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না সেটা নিয়মিত ফলোআপ করার পরামর্শ দেন ডা. রেজা।

তিনি বলেন, দেশে যত উচ্চ রক্তচাপের রোগী আছে তার মাত্র ১৬ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই কয়েকটি কাজ করতে পারলে ধীরে ধীরে কন্ট্রোল রেট বাড়বে, লক্ষ্যমাত্রা ৭০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর এটা করতে পারলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকে যে অকাল মৃত্যু হচ্ছে তাও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।