দীর্ঘদিনের পিঠের ব্যথা, অবহেলার আড়ালে স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস

Chronic back pain
অনলাইন ডেস্ক ০৯ মে ২০২৬ ০৪:৩৭ অপরাহ্ন স্বাস্থ্য
অনলাইন ডেস্ক ০৯ মে ২০২৬ ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
দীর্ঘদিনের পিঠের ব্যথা, অবহেলার আড়ালে স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস
--সংগৃহীত ছবি

পিঠের ব্যথা অনেকের কাছে খুব সাধারণ একটি সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব বা অতিরিক্ত ক্লান্তি এসব কারণেই আমরা প্রায়ই ব্যথাটিকে হালকাভাবে নিই।

কিন্তু যদি এই ব্যথা কয়েক মাস ধরে থাকে, সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীর শক্ত লাগে এবং বিশ্রামে থেকেও আরাম না আসে, তাহলে এটি শুধু ‘সাধারণ ব্যথা’ নাও হতে পারে। এমন উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস (এসপিএ) নামের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ।

স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস আসলে একক কোনো রোগ নয়; এটি একগুচ্ছ সম্পর্কিত রোগের সমষ্টি, যার মধ্যে অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ-সম্পর্কিত আর্থ্রাইটিস অন্তর্ভুক্ত। এই রোগে মূলত মেরুদণ্ড ও স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টে প্রদাহ হয়।

তবে এর প্রভাব শুধু পিঠে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং শরীরের অন্যান্য জয়েন্ট, টেন্ডন, এমনকি চোখ, ত্বক ও অন্ত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রোগটি সাধারণত তরুণদের মধ্যেই শুরু হয়, বিশেষ করে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে।

অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণও জড়িত থাকে; এইচএলএ-বি২৭ নামের একটি জিন এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে জিন থাকলেই যে রোগ হবে, তা নয়, এটি কেবল ঝুঁকির একটি অংশ।

স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসের ব্যথার ধরনও একটু ভিন্ন। সাধারণ পিঠের ব্যথা যেখানে বিশ্রামে কমে যায়, সেখানে এই রোগের ব্যথা বিশ্রামে বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি অনেক রোগীর চোখে প্রদাহ (ইউভিয়াইটিস) দেখা যায়, যেখানে চোখ লাল হয়ে যায়, ব্যথা করে এবং দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। কারও কারও ত্বকে সোরিয়াসিস বা অন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে, যা রোগ নির্ণয়কে আরও জটিল করে তোলে।

সমস্যা হলো, এই রোগ অনেক সময় বছরের পর বছর শনাক্ত হয় না। রোগীরা ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আলাদা আলাদা চিকিৎসা নেন, কিন্তু মূল কারণটি অজানাই থেকে যায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বর্তমানে রোগ নির্ণয়ে এমআরআই-এর মতো আধুনিক ইমেজিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা শুরুতেই প্রদাহ ধরা সম্ভব করে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় অগ্রগতি। নিয়মিত ব্যায়াম, ফিজিক্যাল থেরাপি এবং এনএসএআইডিএস-এর পাশাপাশি বায়োলজিক থেরাপি (যেমন এন্টি-টিএনএফ, এন্টি-আইএল-১৭) ও জেএকে ইনহিবিটরস ব্যবহার করে ব্যথা কমানো, জয়েন্টের ক্ষতি প্রতিরোধ করা এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়।