বিনা টিকিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবেন ১৪ হাজার দর্শক!

football
অনলাইন ডেস্ক ০১ জুন ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন খেলা
অনলাইন ডেস্ক ০১ জুন ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
বিনা টিকিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবেন ১৪ হাজার দর্শক!
--সংগৃহীত ছবি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রায় ছয় দশক পুরোনো একটি চুক্তিকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে নিজেদের সেই অধিকার বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক মেক্সিকো সিটি তথা আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়া প্রথম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে এই ভেন্যু।

এই উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রায় ১৪ হাজার দর্শক কোনো টিকিটের মূল্য পরিশোধ না করেই খেলা উপভোগ করবেন। এর পেছনের ইতিহাসও বেশ ব্যতিক্রমী। 

১৯৬০-এর দশকে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ। তখন প্রায় ৬০০টি বক্স ও ৮ হাজারের বেশি গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করা হয়। ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত যেকোনো খেলা বা অনুষ্ঠানে তারা অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই প্রবেশের অধিকার ভোগ করবেন।

ফলে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ, কনসার্ট কিংবা অন্যান্য বড় আয়োজনেও এসব আসনের মালিকদের প্রবেশাধিকার বহাল থাকে। বর্তমানে এ সুবিধাভোগী আসনের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।

এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফিফা এসব আসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। তবে সে উদ্যোগ সফল হয়নি। ফলে ওই বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ম্যাচও তারা বিনা মূল্যে উপভোগ করেছিলেন। 

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ফিফা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসব আসন নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনতে চাইলেও আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত তাদের পক্ষেই রায় দেয়।

সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা বলেন, “আমাদের অধিকার আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো অর্থ দিতে হবে না।”

মেক্সিকান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আসন ফিফার জন্য বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।

তবে আইনি জয়ের পরও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত অনেক সুবিধাভোগী দর্শক তাদের ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে পাননি। এ নিয়ে রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে তারা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হবেন। 

সব জটিলতা সত্ত্বেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা আশাবাদী, তারা শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি বিনামূল্যে উপভোগ করবেন।