স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে এইচএসসি পরীক্ষার্থী

HSC examinee
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:২৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:২৩ অপরাহ্ন
স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে এইচএসসি পরীক্ষার্থী
--সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সুমন মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রথম বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোপনে বিয়ে করা এইচএসসি পরীক্ষার্থী (১৮) স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে যুবকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন। এরপর তিনি সটকে পড়েছেন। 

রোববার (১৪ জুন) বিকালে পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে অনশনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক শত শত নারী-পুরুষ সুমনের বাড়িতে ভিড় করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়ার সাথে প্রতিবেশী সামছুল হকের কন্যা সান্ত্বনা আক্তার সোমা (১৮) এর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উভয়ের সম্মতিতে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে সুমন ও সোমা উভয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করে আসছিলেন। সম্প্রতি সুমন পরিবারের সম্মতিতে অন্যত্র আবারও বিয়ে করেন। এরপর সোমা বিষয়টি জানতে পেরে সুমনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে সোমা রোববার বিকেলে সুমনের বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে বসেন।

সরেজমিন সুমন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। বাড়িতে গিয়ে কথা হয় এইচএসসি পরীক্ষার্থী সান্ত্বনা আক্তার সোমার সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর থেকে সুমনের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক। পরে আমরা মাদরাসার হুজুরের উপস্থিতিতে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করি। এরপর সুমন সরকারি চাকরি করবে এই মর্মে ভয় দেখিয়ে রেজিস্ট্রি না করে বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্তু সুমন আমার সাথে স্বামী-স্ত্রীর মতই সম্পর্ক করে আসছিল। সুমন দীর্ঘদিন আমাকে ভোগ করে ৪ জুন নতুন করে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর বিষয়টি আমি জানতে পেরে তার সাথে যোগাযোগ করতে থাকি। কিন্তু সে আমাকে পাত্তা না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। তাই বাধ্য হয়ে আজ স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সুমনের বাড়িতে অনশনে বসেছি। সে যদি আমাকে মেনে না নেয়, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আমার আসার কথা শোনার পর থেকেই সুমন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তার সাথে আমার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অনেক ছবি ও ভিডিও রয়েছে।

স্থানীয় ফয়জার রহমান, শিউলী আক্তার, তারিফা বেগমসহ অনেকেই বলেন, সুমন ও সোমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসী সবাই তা জানে কিন্তু সুমন নতুন করে অন্য জায়গায় বিয়ে করায় আমরা আশ্চার্য হয়েছি। সোমা বাধ্য হয়ে আজ অনশনে বসেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।

বাড়িতে থাকা সুমনের মা শেফালী বেগম জানান, সোমাকে যদি আমার ছেলে বিয়ে করে থাকে তাহলে বিষয়টি এতদিন কেন আমাদের জানানো হয়নি। আমরা দেখে শুনে ছেলের বিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে সোমাকে মেনে নেওয়া সম্ভব না।

এ বিষয়ে সুমনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সোমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিন্তু তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে তার ইচ্ছায়। বর্তমানে পরিবারের সম্মতিতে আমি বিয়ে করেছি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এছাড়া আমার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের যে ছবি ও ভিডিও তা এআই দিয়ে তৈরি করা।

এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, অনশনের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।