ধরা-ছাড়া বাণিজ্যে চারঘাট মডেল থানার এএসআই নিজেই অপরাধী মডেল

ASI is a criminal model himself
আবুল কালাম আজাদ ১৫ জুন ২০২৬ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ১৫ জুন ২০২৬ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
ধরা-ছাড়া বাণিজ্যে চারঘাট  মডেল থানার এএসআই নিজেই অপরাধী মডেল
ধরা-ছাড়া বাণিজ্যে চারঘাট মডেল থানার এএসআই নিজেই অপরাধী মডেল

রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আসামি ধরা-ছাড়ার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মাদকচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মাসোহারা তোলারও গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর আলম নামের এই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নামে এই মাসোহারা আদায় করার কারণে তারাও বিব্রত হচ্ছেন।রাজশাহী খাবার

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে সুমনকে (৩৫) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। গ্রেপ্তারের পর ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামি সাহাবুদ্দিনের বাবার নাম মৃত গোলাম মজিদ।

থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে থাকা একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত থেকে চারঘাট থানায় পৌঁছায়। এখনও আইনের আওতায় আসেননি মাদক কারবারি সাহাবুদ্দিন। এরমধ্যে এএসআই জাহাঙ্গীর তাকে গ্রেপ্তার করলেও ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি ওই এলাকার প্রায় সবাই জানেন।

এদিকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে মো. সাধন (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে মাদক মামলার আসামি করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে এএসআই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। গত ৮ জুন চারঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। আসামি সাধনের বাড়ি উপজেলার মোক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম জেকের আলী।

এলাকাবাসী জানান, পারিবারিক কলহে সাধন প্রায়ই তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে বাড়িতে মারধর করেন। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে স্বপ্না পুলিশের কাছে যান। তখন এএসআই জাহাঙ্গীর তাকে মাদক মামলায় জেলে পাঠিয়ে দেওয়ার বুদ্ধি দেন। পরে স্বপ্নার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গত ৮ জুন খুদির বটতলা এলাকা থেকে সাধনকে আটক করেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। পরে ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে মাদকের মামলা করা হয়। এএসআই জাহাঙ্গীর আলমকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন স্বপ্না খাতুন। 

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম চারঘাটের সবচেয়ে মাদকপ্রবণ এলাকা ইউসুফপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। ওই এলাকায় অন্তত ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেন তিনি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় বোনাসও দিতে হয়েছে মাদক কারবারিদের।

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। তিনি টাকার বিনিময়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাহাবুদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন। বলেন, ‘এসব কথা সব মিথ্যা। এসবের সত্যতা নেই। আমাকে এসব নিয়ে কেউ কিছু বলেনি।’

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, আসামি সাহাবুদ্দিনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া কিংবা টাকা নিয়ে সাধনকে মাদক মামলার আসামি করার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘মাদকের মামলা কিন্তু এএসআইরা করতে পারেন না। মাদকের মামলা এসআইরা করেন। তাই এ বিষয়টা খোঁজখবর না নিয়ে বলা যাবে না।’

তবে ওসি স্বীকার করেন জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মাদকচক্রের যোগাযোগের বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। খোঁজখবর নেওয়ার পর এ নিয়ে কথা বলবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ওসি।