পাহাড়ে বিদেশি আম চাষে নতুন সম্ভাবনা

Mango cultivation
অনলাইন ডেস্ক ২৮ জুন ২০২৬ ০৮:২৫ অপরাহ্ন কৃষি
অনলাইন ডেস্ক ২৮ জুন ২০২৬ ০৮:২৫ অপরাহ্ন
পাহাড়ে বিদেশি আম চাষে নতুন সম্ভাবনা
--সংগৃহীত ছবি

খাগড়াছড়ির পাহাড়ে বদলে যাচ্ছে আম চাষের চিত্র। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিদেশি জাতের আম চাষ অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা ঝুঁকছেন বিদেশি জাতের আমের বাণিজ্যিক আবাদে। দেশীয় আমের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় এ চাষে বাড়ছে আগ্রহ, মিলছে অর্থনৈতিক সাফল্যও। কৃষি বিভাগের সহায়তায় সম্প্রসারিত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার এ খাত। তবে উৎপাদন বাড়লেও বাজারজাতকরণে অতিরিক্ত ব্যয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাগান মালিকরা।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিদেশি আম চাষ করছেন মংশিতু চৌধুরী। সরকারি চাকরি ছেড়ে প্রায় ৩০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল আম বাগান। সেখানে দেশীয় জাতের পাশাপাশি আমেরিকান পালমার, মিয়াজাকি, ব্যানানা ম্যাংগো, থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাংগো, দোকমাই ও কেসিংটন প্রাইডসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমের আবাদ করেছেন তিনি।

মংশিতু চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, দেশীয় জাতের আমের তুলনায় বিদেশি জাতের আমের দাম ও লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এসব আমের চাষ শুরু করি। বর্তমানে বিদেশি আমের বাজারমূল্য ভালো থাকায় অনেক কৃষক এ ধরনের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া এসব বাগানে কাজ করে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি ও বিদেশি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের বিদেশি আম চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উন্নত মানের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।

‘খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত আম দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হবে। তাছাড়া এ ধরণের অনিয়মে জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, দেশীয় আমের পাশাপাশি বিদেশি জাতের আমের চাষ হচ্ছে। এসব আমের দাম ভালো এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যায়। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বাজারে বিদেশি আমের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৬২ হাজার ১৭৯ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলার অর্থনীতিতে আম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

তবে উৎপাদনের পর বাজারজাতকরণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বাগান মালিকরা। তাদের অভিযোগ, খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আম পরিবহনের সময় বাজার ফান্ড, জেলা পরিষদ ও পৌরসভাসহ অন্তত চারটি স্থানে টোল দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আম কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

‘দেশীয় জাতের পাশাপাশি শখ থেকে বিদেশি আমের চাষ করেছি। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাগানে বিদেশি জাতের আম চাষে বেশ লাভবান হয়েছি।’

দীঘিনালার কৃষক প্রিয়দর্শি চাকমা বলেন, আমের দেশী জাতের তুলনায় বিদেশি আমের চাহিদা বেশি এবং অন্যান্য আমের তুলনায় দাম বেশী থাকায় বাগানে ১২-১৫ ধরনের বিদেশি জাতের আমের চাষ করেছি এবছর ফলনও ভালো হয়েছে।

আরেক কৃষক প্রসীত চাকমা বলেন, দেশীয় জাতের পাশাপাশি শখ থেকে বিদেশি আমের চাষ করেছি। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাগানে বিদেশি জাতের আম চাষে বেশ লাভবান হয়েছি।

খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক কালো বরণ চাকমা বলেন, আম বাগান মালিকদের থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী আম কিনতে আসছেন না। টোল কমানো হলে বাগান মালিকরা উপকৃত হবেন এবং আমের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।

‘দেশীয় জাতের আমের তুলনায় বিদেশি জাতের আমের দাম ও লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এসব আমের চাষ শুরু করি। বর্তমানে বিদেশি আমের বাজারমূল্য ভালো থাকায় অনেক কৃষক এ ধরনের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া এসব বাগানে কাজ করে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।’

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মালেক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কিছুসংখ্যক কৃষক ব্যক্তি উদ্যোগে দেশীয় জাতের পাশাপাশি আমেরিকান পালমার, মিয়াজাকি, ব্যানানা ম্যাংগো, থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাংগো, দোকমাই ও কেসিংটন প্রাইড জাতের আম চাষ হচ্ছে, ভালো ফলনও ফলন হচ্ছে, পার্বত্য অঞ্চলে কিছুসংখ্যক কৃষক ব্যক্তি উদ্যোগে বিদেশি জাতের আম চাষাবাদ করছেন, তবে ব্যাপক হারে চাষাবাদের জন্য এসব জাত নিয়ে গবেষণার ফলাফল প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ বলেন, খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত আম দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হবে। তাছাড়া এ ধরণের অনিয়মে জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।