দুধ দিয়ে গোসল করা কি ঠিক?

Is it okay to bathe with milk
অনলাইন ডেস্ক ১৫ জুন ২০২৬ ০৬:৫১ অপরাহ্ন ধর্ম
অনলাইন ডেস্ক ১৫ জুন ২০২৬ ০৬:৫১ অপরাহ্ন
দুধ দিয়ে গোসল করা কি ঠিক?
সংগৃহীত ছবি

পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাবার দুধ। দুধ পানের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম ও উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)-এর প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল দুধ। মেরাজের রাতে জিবরাঈল (আ.) রাসুল (সা.)-কে দুধ পান করতে দিয়েছিলেন। মেরাজের রাতে বাইতুল মুকাদ্দাসে নবীদের নিয়ে ইমামতি করে বের হওয়ার সময় জিবরাঈল আ. নবীজীর সামনে দুটি পেয়ালা রেখেছিলেন। একটি ছিল দুধের অপরটি শরাবের। 

নবীজী দুধের পেয়ালা গ্রহণ করেছিলেন। জিবরাঈল (আ.) তখন বলেন, আপনি (দ্বীনের) স্বভাবসিদ্ধ বিষয়টি নির্বাচন করেছেন।

নবীজী মদের পেয়ালা নেওয়ার পরিবর্তে দুধের পেয়ালা গ্রহণ করায় জিবরীল (আ.) বলেন, আপনি যদি মদের পেয়ালা নিতেন তাহলে আপনার উম্মত বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৪)

বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন উপলক্ষ, আনন্দ বা ভুল থেকে উত্তরণ ও সঠিক পথে ফেরার আসার প্রতিজ্ঞা করার সময় দুধ দিয়ে গোসল করেন এবং ঘটা করে তা প্রচার করেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন কিছু করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 

ইসলামী চিন্তাবিদেরা এমন কাজকে উদ্ভট, অপ্রয়োজনীয় ও কুসংস্কারমূলক কাজ বলে চিহ্নিত করেছেন। মূলত দুধ একটি খাদ্য। ইসলামে খাবার-দাবার এবং যেকোনো বস্তু অপচয়কে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কাজেই দুধ দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদমসন্তান, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা অপচয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৮)

ভুল বুঝতে পারার পর মানসিকতা পরিবর্তন না করে শুধু দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে সেই ভুল থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব নয়। দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে একদিকে যেমন খাবারের অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে খাবারের প্রতি অসম্মান করা হচ্ছে। তাই এসব পরিহার করা উচিত।

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ কখনো ভুল থেকে উত্তরণ করতে চাইলে তার জন্য তওবা ও অনুশোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। তওবার মাধ্যমে মানুষের হক ও আল্লাহর সঙ্গে শিরকের গুনাহ ছাড়া সব ধরনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ তায়ালা। তাই কখনো অনুশোচনা বোধ করলে আল্লাহ তায়ালার দরবারে ফিরে আসা উচিত এবং একান্ত মনে তওবা করা উচিত। তওবার মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা একজন মুসলিমকে গুনাহ মুক্ত করেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়লা বলেছেন, বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,  আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না’। (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)

অন্য আয়াতে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘পথভ্রষ্টরা ছাড়া, কে তার রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়’ ? (সুরা হিজর, আয়াত : ৫৬)