আমের রাজ্য ভ্রমণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

US Ambassador to visit Amer State
আবুল কালাম আজাদ- ১৬ জুন ২০২৬ ০২:৩১ অপরাহ্ন জাতীয়
আবুল কালাম আজাদ- ১৬ জুন ২০২৬ ০২:৩১ অপরাহ্ন
আমের রাজ্য ভ্রমণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছবি - কাবিল হোসেন

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে উন্নত কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ ও সংরক্ষণ ও রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন আমের রাজ্য রাজশাহী সফরে এসে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মঙ্গলবার(১৬জুন) সকালে চার সদস্যের সফরসঙ্গী নিয়ে  আমের রাজধানী রাজশাহী সফরে আসেন। সফরকালে তিনি রাজশাহীর আম শিল্প, কৃষি সম্ভাবনা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। পরে সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে তারা সড়কপথে পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম হাট হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির উদ্দেশে রওনা হন।


সকাল ৯টার দিকে রাষ্ট্রদূত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখেন, আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েক ধরনের আমের স্বাদও গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা তাঁকে রাজশাহীর আম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম। এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি, কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে আমি সত্যিই আনন্দিত।”


তিনি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। তাই কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখা ও স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ সময় হিমায়িত আম পাওয়া যায়। রাজশাহীর মতো এত তাজা আম সেখানে সহজে পাওয়া যায় না।

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে উন্নত কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা মনে করেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করতে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।