রামেক হাসতালে চাষ হওয়া জীবানুতে সুস্থরাও আক্রান্ত হচ্ছ মরণ ব্যাধিতে

Healthy people are also infected with deadly diseases due to germs cultivated at Ramech Hospital
আবুল কালাম আজাদ ২২ জুন ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ ২২ জুন ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
রামেক হাসতালে চাষ হওয়া জীবানুতে  সুস্থরাও আক্রান্ত হচ্ছ মরণ ব্যাধিতে
যেখানে মানুষ আসে রোগ থেকে মুক্তি পেতে, সেখানেই ওত পেতে আছে হাজারো জীবাণু।

যেখানে মানুষ আসে রোগ থেকে মুক্তি পেতে, সেখানেই ওত পেতে আছে হাজারো জীবাণু। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) সাধারণ ওয়ার্ডের ওয়াশরুমগুলোর চিত্র দেখে চেনার উপায় নেই এটি কোনো চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র, নাকি কোনো ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ আর উপচে পড়া আবর্জনার কারণে হাসপাতালের ভেতরেই চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রোগীর সাথে আসা স্বজনেরা এই নোংরা পরিশে থেকে তারাও নানা মররণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।তাছাড়া বাড়ী ফিরার সময় নিয়ে যাচ্ছেন রোগ জীবানু যা পরবর্তীতে তাদের সংস্পর্শে আক্রান্ত হচ্ছ পরিবারের শিশু ও সদস্যরা।

সরেজমিনে দ হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড গুলো ঘুরে দেখা যায়, ওয়াশরুমগুলোর দরজা ভাঙা, মেঝেতে জমে আছে নোংরা পানি। কমোড ও প্যানগুলো জন্মথেকে পরিষ্কার না করায় সেখানে চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। বেসিনগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় নোংরা পানি উপচে পড়ছে মেঝেতে।আর সেই পানি উপচে আসছে রোগীর ওয়ার্ডে। দূর থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের বাধ্য হয়েই এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ব্যবহার করতে হচ্ছে ওয়াশরুম আর টয়লেট।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে সুস্থ মানুষ আসলে রোগাক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরবে। ওয়াশরুমের ভেতরে ঢোকা তো দূরের কথা, বারান্দা দিয়ে হাঁটার সময়ও ওড়না দিয়ে নাক চেপে ধরে রাখতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কি এগুলো চোখে পড়ে না?"

আরেক নারী রোগী জানান, ওয়াশরুমের এই নোংরা পরিবেশের কারণে টয়লেটে গিয়ে বা বেরিয়ে এসে বোমি করেন।দূর্গন্ধের ভয়ে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ টয়লেট চেপে রাখছেন, যা বিশেষ করে কিডনি বা ইউরিন ইনফেকশনের রোগীদের জন্য আরও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়াশরুম থেকে ছড়াতে পারে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক রোগ। যেখানে শত শত দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন, সেখানে এমন পরিবেশ পুরো হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এই বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সাথে সাথে মোবাইল কেটে দেন।এর ফলে কতৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নার্স বলেন,ওয়ার্ডের মেঝে ও টয়লেট পরিস্কারের জন্য পর্যাপ্ত লোকও বল থাকা সত্ত্বেও লোকবল সংকট দেখিয়ে কাজ করে না আইয়া ও সুইপার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তারা দিনে একবার ওয়ার্ডের মেঝে গুলো জীবাণুনাশক ছাড়াই সাদা পানিদিয়ে দায়সায়রা ওয়ার্ডের মেঝে মুছে,টয়লেটের ধারে কাছেও যায়না তারা।