দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
দুর্নীতির কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত যুক্তিতর্কে মুখর হয়ে ওঠে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন। তথ্যনির্ভর বক্তব্য, তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ও প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়। দীর্ঘ যুক্তির লড়াই শেষে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহী এবং পবা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করে পবা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এতে উপজেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
প্রাথমিক পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি দলে তিনজন করে শিক্ষার্থী নির্ধারিত বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা, তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য এবং তাৎক্ষণিক জবাবে জমে ওঠে আয়োজন। তাদের বক্তব্যে দুর্নীতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রতিযোগীরা যুক্তি দিয়ে তুলে ধরে, কেবল আইন প্রয়োগ বা শাস্তির মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি। পাল্টা বক্তব্যে প্রতিপক্ষের যুক্তির দুর্বলতা তুলে ধরে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য ও উদাহরণ উপস্থাপন করে তারা। শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন ও যুক্তি খণ্ডনের কৌশলে বারবার করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন।
বাছাইপর্ব শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা। ফাইনাল রাউন্ডে প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বিপক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরে বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তথ্য, উদাহরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুই দলই নিজ নিজ অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। বিচারকদের মূল্যায়নে বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা চ্যাম্পিয়ন এবং নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো সততা, নৈতিকতা ও জনসচেতনতা। শিক্ষার্থীরা যুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে সমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়কে ‘না’ বলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তানভীর আহমেদ সিদ্দীক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মাহমুদ হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আখতার ফারুক।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আয়েশা নাজনীন এবং সহকারী প্রোগ্রামার ইসমোতারা খাতুন।
এ সময় পবা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী নাজমুল ইসলাম, সদস্য সাদিকুল ইসলাম ও রহিমা বেগম, বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, কমিটির অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।