এক দশক পরও অজানা হলি আর্টিজান ট্রাজেডি
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলার এক দশক অর্থাৎ, ১০ বছর পূর্ণ হলো।বুধবার ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত ওই সশস্ত্র হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
সেদিন অন্যান্য দিনের মতোই গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ‘হলি আর্টিজান বেকারি’তে দেশি-বিদেশি অনেকেই খেতে এসেছিলেন। আনন্দ-আড্ডায় মশগুল ছিলেন সবাই।
কিন্তু রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন সশস্ত্র যুবক হঠাৎ করেই ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। তারা বিদেশি নাগরিকদের খুঁজতে শুরু করে এবং মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ওই হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২৯ জন মারা যায়।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ নামে একটি অভিযান চালায়। সেই অভিযানে রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামীহ মোবাশ্বীর, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম পায়েল নামে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।
ঘটনার পর গুলশান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। চার বছর তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়।
আসামিরা হলেন— জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। এদের মধ্যে খালেদ ও রিপন পলাতক ছিলেন।
পরবর্তীতে বড় মিজানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাকি সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
এরপর মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল এবং জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায় দেন। বিচারপতি সহিদুল করিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সাত আসামির সবাইকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
সেই সাত আসামি হলেন— রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ।
হামলার দুই বছর পর হলি আর্টিজানের ওই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর সরকারিভাবে সেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি ইতালি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এছাড়া হামলায় নিহত ডিবির তৎকালীন সহকারী কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার তৎকালীন ওসি মো. সালাহউদ্দিন আহম্মেদের স্মরণে পুলিশ কর্মকর্তারাও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে এক দশক পর আজও অজানা ভয়ানক ওই হামলার নেপথ্যের কারণ।