প্রাচীর নির্মাণ না করে ভবন রং ও সংস্কার : নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত দাবি স্থানীয়দের
সরকারি বরাদ্দ ছিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য। কিন্তু সেই বরাদ্দে প্রাচীর নির্মাণ না করে অফিস ভবনে রং-বার্নিশ ও সীমিত সংস্কারকাজ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানীর বিরুদ্ধে। এতে ৪ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সীমানা প্রাচীর বা কোনো দেয়াল নির্মাণ না করে শুধু অফিস ভবনে রং এবং অল্প কিছু সংস্কার করেই পুরো টাকা খরচ দেখান। কিন্তু পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর টাকা অবশিষ্ট থাকলে অন্যান্য সংস্কার কাজ সম্পাদন করতে হবে। এবং সকল কাজ সম্পাদন শেষে টাকা অবশিষ্ট থাকলে তা ৩০ জুন এর মধ্যে ফেরত দিতে হবে।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পেছনের অংশ এখনো উন্মুক্ত। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সরকারি স্থাপনা ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রাচীর নির্মাণের পরিবর্তে অফিস ভবনে রং-বার্নিশ এবং সীমিত সংস্কারকাজ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সম্পন্ন হওয়া কাজের প্রকৃত ব্যয় বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।এছাড়াও সংস্কার কাজ তেমন কিছু করেননি বললেই চলে। শুধু রঙের কাজ করেছেন। যা খতিয়ে দেখে হিসাব করলে এক লাখ টাকার বেশি না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন সরকারি নির্দেশনায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তখন কোন কর্তৃত্বে সেই কাজ বাদ দিয়ে অন্য খাতে বরাদ্দ ব্যয় করা হলো? তাদের দাবি, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তদন্তে যদি সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, “সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেয়ে অফিস ভবনে রং করা এবং কিছু সংস্কার করা বেশি জরুরি ছিল। জেলা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ লাখ টাকা দিয়ে পুরো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই আমার কাছে এটাই অগ্রাধিকার মনে হয়েছে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার প্রথমে দাবি করেন, “নীতিমালা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে।” তবে প্রতিবেদকের কাছে পরিপত্রে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।