নিস্পাপদের নিকট শুধু রেলওয়ে নয় জিম্মি সকল প্রশাসন
বাংলাদেশ রেলওয়েকে নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনা এবং আসল বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল তফাৎ রয়েছে। কোনো প্রকার ঝুটঝামেলা ছাড়া ট্রেনে যাতায়াত করার নিয়মটি খুবই সহজ ও সরল আপনি কাউন্টার বা অনলাইন থেকে নিজের গন্তব্যের বৈধ টিকেট কাটবেন নির্ধারিত আসনে বসবেন এবং স্বচ্ছন্দে ভ্রমণ করবেন। এই সহজ নিয়মটি যারা মেনে চলেন তাদের সাথে ট্রেনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বা টিটিই তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন এমন একটি উদাহরণও খুঁজে পাওয়া কঠিন।
এত যদি ছাত্র সমাজ পারে তাহলে শুধু ট্রেনে কেনো রেলের ভূসম্পত্তি হতে শুরু করে টোপ টু বটাম খতিয়ে দেখুক কোথায় রেলের লশটা হয় সেটা হবে বহি প্রকাশে। স্বচক্ষে দেখতে পায় রেলের ভূসম্পত্তি সাধারণ পাবলিক অবৈধভাবে অবস্থান করে এটা কি ন্যায় জানতে চায়।
তখন কি ছাত্র সমাজে প্যারালাইসেস হয়?
রেলওয়েকে ঘিরে যাবতীয় বিশৃঙ্খলা ও খারাপ অভিজ্ঞতার গল্প মূলত তারাই তৈরি করে যারা অন্যায় পথে ফাঁকি দিয়ে কিংবা ফ্রিতে ভ্রমণ করতে চায়। তারা যখন পরিচিতির দাপট ভুয়া পরিচয় কিংবা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উচ্চ শ্রেণীর সিট দখল করতে যায় এবং রেল কর্মীরা সরকারি আইন রক্ষা করতে তাদের বাধা দেন ঠিক তখনই বিপত্তিটা বাঁধে।
নিজেদের অন্যায় ঢাকতে এবং অপরাধবোধ থেকে বাঁচতে এই অপশক্তির শেষ অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় রানিং রেল কর্মী ও টিটিইদের নামে কুৎসা রটানো হেনস্থার মিথ্যা অভিযোগ তোলা কিংবা ঘুষের দায় চাপানো। সোজা কথায় টিকেট কেটে নিয়ম মেনে ভ্রমণ করলে ট্রেনের অভিজ্ঞতা সবসময়ই স্বস্তিদায়ক আর যারা নিয়ম ভেঙে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় মূলত তারাই নিজের দোষ অন্যের কাঁধে চেপে দিতে রেলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার খেলায় মেতে ওঠে।
যদি কোনো ট্রেনের টিটি (Train Ticket Examiner) নিয়মবহির্ভূত কাজ করে থাকেন টিকিট না দিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেন করেন তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অবশ্যই তাঁর তদন্ত ও বিচার হবে বা হতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো ঘটনার সত্যতা কতটুকু?
বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি নিরাপদ মানসম্মত ও লাভজনক রাষ্ট্রীয় সেবায় পরিণত করতে হলে কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হলেই চলবে না সাধারণ যাত্রীদেরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
ধরে নিলাম অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ দোষী কিন্তু তাই বলে কি হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অধিকার কারো আছে?
২১ জুলাই রাজশাহী ঘটে যাওয়া ঘটনার সূত্রপাত কেন হল,বিশ্লষণে যাত্রীদের মতামত সামাজিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।ধরে নেয়া যাক টিটিই অপরাধ করেছে,তাই বলে আন্তঃনগর ও মেইল- কমিটর মিলে ৭/ ৮ টি ট্রেনের প্রায় ৭ হাজারের অধিক যাত্রীর অপরাধ কি ছিলো?
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথিমধ্যে ট্রেন আটকে রাখা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলা,রেললাইন অবরোধ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া এগুলো কি কোনো সুস্থ ও সভ্য আন্দোলনের লক্ষণ হতে পারে? একজন ব্যক্তির অপরাধের (যদি তা প্রমাণিতও হয়) দায়ভার হাজার হাজার নির্দোষ যাত্রী কেন বইবে?
আটকা পড়া বনলতা ট্রেনে একজন মহিলা যাত্রীকে করুন আর্তনাদ করে বলছে,তার বাবা হার্টের রোগী ,বিকেলে ঢাকায় চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসার সময় নির্ধারন আছে। জঙ্গলে পড়ে আছি। আমার বাবার কিছু হলে এর দায় ভার কার।
অন্য এক যাত্রী মিডিয়াকে বলছে,তার ৩ টায় ফ্লাইট। এই ফ্লাইট মিস করলে তার জীবন বরবাদ। আমি এখন কি করবো। আমার ভবিষ্যত জীবনটা শেষ,এর দায় কার?
এছাড়া এই ঘটনার যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি রেলের মোটা অংকের রাজস্বের ক্ষতির জন্য দায়ী কারা,দায় কার?
এর দায় কার? এমন হাজারে যাত্রীর প্রশ্নের উত্তর সবার জানা। যারা সামান্য অজুহাতে মব করে ট্রেন অবরোধ করেছে তারাই এর জন্য দায়ী?
একজন যাত্রী বলেন,আগে জানতাম,গুটি কয়েক এসব বিবেকহীন ছাত্রের নিকট রাবি শিক্ষক ও প্রজাশাসন জিম্মি,এখন দেখছি দেশের ভেতরে স্বাধীন বৃহহত্তর প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে, সাথে সিভিল প্রশাসনও জিম্মি।
বিভাগীয় কমিশনার অফিসে রেলওয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা,রাবি ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে বাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে সমঝোতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শুধু ছাত্রদের দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যাত্রীদের জিম্মির বিষয়টি নিয়ে কেউ ক্ষিণ আওয়াজটি করেনি।সমঝতা বৈঠকে রেলকর্তাদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাদের পূরণের বিষয়টি ছিলো পুরো বৈঠক।
ছাত্রদের ভাষায় ঘটনায় একতরফা দোষী রেল কর্মীর নিরাপত্তা অনিশ্চিতে বৈঠকে অনপস্থিত টিটিইকে একতরফা অপরাধী বানিয়ে দেয়া হলো,নিষ্পাপ ছাত্রদের দাবি মেনে নেয়া হলো, সাথে জিম্মি হলো পুরো রেলওয়ে প্রশাসন।