কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলার' অভিযোগে পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, তদন্তের দাবি
রাজশাহীতে এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সুদের কারবার, প্রতারণা এবং কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী বলে দাবি করা নারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৪টা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী বলে দাবি করা সুমি বেগম, লাবনী খাতুন, শম্পা, মনিরা আক্তার, স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও মনোয়ারাসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানায় কর্মরত এএসআই মনিরুল ফেরদৌসের স্ত্রী মনিরা বেগম বজরাপুর এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নেন। তাঁদের দাবি, ঋণ নেওয়ার সময় গ্রহীতাদের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ফাঁকা চেক নেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের শর্ত দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে তিন নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁদের রাজধানী ঢাকায় নিয়ে কিডনি বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁদের ভারতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁদের ভাষ্য, সেখানে কিডনি বিক্রির কথা বলা হলেও পরে তাঁদের সন্দেহ হয় যে মানবপাচারের শিকার হতে পারেন। এ কারণে তাঁরা সেখান থেকে ফিরে এসে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
মানববন্ধন শেষে তাঁরা জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।