গ্যাস সংকটে ১৮ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ

18 CNG filling stations closed due to gas shortage
অনলাইন ডেস্ক ২৪ জুলাই ২০২৬ ০৪:১১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ২৪ জুলাই ২০২৬ ০৪:১১ অপরাহ্ন
গ্যাস সংকটে ১৮ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ
--সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তীব্র গ্যাস সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশের ২০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৮টিতেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে চালু থাকা দুটি স্টেশনে গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। গ্যাসের আশায় ভোর থেকেই স্টেশনগুলোতে ভিড় করেন চালকেরা। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেকেই খালি ট্যাংক নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চালকদের দৈনিক আয়ও কমে গেছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে চাপ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, আবার অধিকাংশ স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

টিপরদী এলাকার মধুমতি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানেও চাপ খুবই কম। ফলে দ্রুত গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

পিরোজপুর এলাকার শুকতারা ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকারের চালক নুর হোসেন বলেন, লাইনে দাঁড়াতে গিয়েই দেখি বিশাল সিরিয়াল। কিছুক্ষণ পর আবার পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংক নিয়েই ফিরে যাচ্ছি। আমাদের আগে বড় কাভার্ডভ্যানগুলোতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

টিপরদী এলাকার মধুমতি ফিলিং স্টেশনে আসা হাইস গাড়ির চালক আব্দুর রহমান বলেন, আমার গাড়িতে সাধারণ সময়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকার গ্যাস লাগে। কিন্তু সংকটের কারণে মাত্র ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিএনজিচালক মোবারক বলেন, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপরও যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়, তা দিয়ে আধাবেলাও গাড়ি চালানো যায় না। তাই অনেক চালক গাড়ি বেরই করছেন না।

নাভানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মী রাতুল হাসান বলেন, কমপ্রেসার চালিয়েও গ্যাসের চাপ উঠছে না। লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস নেই। এ কারণেই গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেঘনাঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা বলেন, মহেশখালির একটি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে সারা দেশেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।