অসহায় পরিবারে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ইউএনও’র ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন

স্টাফ রিপোর্টার: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৫০ অপরাহ্ন সারা বাংলা
স্টাফ রিপোর্টার: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৫০ অপরাহ্ন
অসহায় পরিবারে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ইউএনও’র ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন

পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি (পদ্মপুকুর) এলাকায় অসহায় পরিবারে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ইবনুল আবেদীন। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে সুপেয় পানির সংকট দূর করতে এমন মানবিক উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি (পদ্মপুকুর) এলাকার বাসিন্দা মোসা: সান্জুয়ারা বেগম। বিশুদ্ধ পানির সংকট নিবারনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত আবেদন করেন। তিনি জানান, তার বাড়িসহ আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবারে বিশুদ্ধ পানির অভাব। কারোই বাড়ীতে বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার টিউবওয়েল নাই। হতদরিদ্র পরিবারগুলো গরীব বলে নলকূপ বসাতে পারছেন না এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র কষ্টে আছেন। 

তাদের এমন কষ্টের কথা অনুভব করেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এলাকায় খোঁজ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে তাদের কষ্ট লাঘব করেছেন। তাঁর এমন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণে এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। এমন ইউএনও'র মতো মানুষ যেন প্রতিটি পরিবারে থাকে বলেও জানান তাঁরা।

শুধু তাই নয় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ, দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। ইউএনও’র এমন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ নিসন্দেহে প্রশংসনীয় বলে জানান এলাকাবাসী।

সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মোসা: সান্জুয়ারা বেগমের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয় জন। স্বামী মো: মোতালেব আলী ৮ বছর থেকে অসুস্থ। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৩) বিবাহিত। সেও অসুস্থ, টুকটাক কাজ করে, ভারী কাজ করতে পারে না, তাই সবাই কাজেও নিতে চায় না। ছোট ছেলে মিঠুন হোসেন (২৫), আর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন থাকে শশুর বাড়ী। বাড়ীর ভিটা বাবদ তিন শতক জমিই তাদের সম্বল। বাড়ীতে উপার্জনের ব্যক্তি একজন ছোট ছেলে। তার উপরই সংসারের ভার।

মোসা: সান্জুয়ারা বেগম বলেন, আমি গরিব মানুষ, অনেক বার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলায় গেছি আবেদন করেছি, দিবো দিবো করে আমাকে কেউ কোনোদিন কিছু দেয় নি। তাই কয়েকদিন আগে সরাসরি ইউএনও স্যারের কাছে গেলাম। তিনি আমার সমস্যার কথা শুনলেন। কোথায় থেকে পানি খায় জানতে চাইলেন। আমি মানুষের বাড়ীসহ মসজিদ থেকে পানি নিয়ে এসে খায়, জানালাম। মসজিদ বন্ধ থাকলে পানি নিয়ে আসা যায় না। পরে নিয়ে আনতে হয়। সবসময় তো মসজিদ খোলা থাকে না তখন আমাদের খুব সমস্যা হয় জানালাম। সবকিছু শুনে তিনি আমাকে আস্বস্ত করলেন। তার তিনদিন পর আমাকে ফোন করে জানালেন আপনার বাসায় ডিপ টিউবওয়েলসহ মিস্ত্রি যাচ্ছে।  সেদিনই মালামাল নিয়ে এসে টিউবওয়েল পুঁতে মেঝে ঢালাই করে সম্পুর্ন কাজ কমপ্লিট করে দিয়েছে। এখন এখান থেকে পানি খেতে পারবো। আশেপাশে সবাই এখান থেকে পানি খেতে পারবে। এলাকার বসবাসকারী সকলের পানি সংকট দুর হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকেও খেটে খেতে হয়। শুধু ছোট ছেলের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাও সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানুষের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে হয়। মেয়েদেরও মাঠে অনেক কাজ আছে। এলাকায় সবজি চাষসহ বিভিন্ন লটকানো ফসল হয়। মরিচ, লাউ, করলা, মুলা, বেগুন তোলা, আগাছা পরিষ্কার করার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। 

এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ কোনদিন আমাকে কিছু দেয়নি। আমার মাটির বাড়ী-ঘর ছিল তাও পাঁচ বছর আগে অতি বৃষ্টির কারণে ভেঙে যায়। অর্থের অভাবে ঠিক করতে পারেন নি। থাকার ঘরও নেই অন্যের দেওয়া টিনের বেড়া আর টিনের ছাউনি দিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনমতো বসবাস করি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের অনেকবার আবেদন করেছি। তারা এসে দেখে যায়, বলে যায় ঘর, পায়খানা ও মটার দিবো বলে লিখেও নিয়ে যায়, পরে আর দেয় না। ছেলেমেয়ে নিয়ে আমার খুব কষ্ট হয়। ইউএনও স্যার আমার কষ্টের কথা শুনে আমাকে পানি খাওয়ার ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছে। সেজন্য স্যারের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মো: মোতালেব আলী বলেন, ইউএনও মহোদয় আমাকে ডিপ টিউবওয়েল দিয়েছে। আমি খুব খুশি। আমি ৮ বছর থেকে অসুস্থ, কোন কাজ কাম করতে পারিনা। দুর থেকে, মসজিদ থেকে পানি নিয়ে এনে খায়, খুব কষ্ট হয়। আর কষ্ট করে পানি আনতে যাওয়া লাগবে না। টিউবওয়েল দিয়ে আমার খুব উপকার হয়েছে। মৃত্যু পর্যন্ত স্যারের কথা মনে থাকবে। প্রতি ওয়াক্তে নামাজ পড়ে দোয়া করবো আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ রাখেন, এভাবে দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখেন। 

এলাকার নারীরা জানান, এই পাড়ায় টিউবওয়েল দেওয়ায় আমাদের সকলের উপকার হয়েছে।  মানুষের বাড়ীতে থেকে পানি আনতে ঝামেলায় পড়তে হতো সেটা আর হবে না। তারাও ইউএনও কে ধন্যবাদ জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইবনুল আবেদীন বলেন, বিশুদ্ধ পানি পাওয়া প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। অসহায় পরিবারগুলো নিজেদের টাকায় একটি টিউবওয়েল বসাতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো নিরাপদ পানির কষ্টে ভুগছেন। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করায় সেই অসহায় পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হয়েছে। সরকার ও উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সেইসাথে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।