মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

He would take offensive pictures of girls and send them to his boyfriend
বিশেষ প্রতিনিধি :- ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
বিশেষ প্রতিনিধি :- ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ন
মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী
--সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন সহপাঠীর গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে তার এক বন্ধুকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রী হলের কক্ষের ভেতরে ছাত্রীদের অসতর্ক অবস্থার ছবি তুলে লন্ডনে অবস্থানরত এক যুবককে পাঠাতেন।বৃহস্পতিবার(৬আগস্ট)  দিবাগত রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবিদ নামে এক লন্ডনপ্রবাসীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবককে সন্তুষ্ট করতে তিনি হলের পর্দানশীল ও সাধারণ ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও অশালীন ছবি গোপনে সংগ্রহ করে পাঠাতেন।

 সম্প্রতি ওই যুবকের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর সম্পর্কের অবনতি হলে প্রতিশোধ নিতে আবিদ ছবিগুলো হলের অন্য ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন। এরপরই ভুক্তভোগীরা আবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, অভিযুক্ত ছাত্রী এসব ছবি তাকে পাঠাতেন এবং নিষেধ করলেও শুনতেন না।


হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হল একটি নিরাপদ জায়গা মনে করে তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যমতো পোশাক পরে চলাফেরা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্রী তাদের ঘুমন্ত অবস্থার, টি-শার্ট পরা বা ওড়না ছাড়া অবস্থার ছবি তুলে বাইরে পাচার করেছেন। এমনকি বোরকা ও নিকাব পরা ছাত্রীদেরও পর্দার আড়ালের ছবি তিনি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।


শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অভিযুক্ত ছাত্রী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পৈশাচিক কোনো আনন্দ বা উদ্দেশ্য নিয়ে নয় বরং ‘কমনসেন্সের অভাবে’ তিনি এসব ছবি তুলেছেন। তবে আবিদ নামক ওই যুবকের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ওই ছাত্রী এসব ছবি তুলে বিকৃত আনন্দ পেতেন। আবিদ আরও জানিয়েছেন, এসব ছবি আরও কতজনের কাছে পৌঁছেছে সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।


ঘটনার বিষয়ে জানতে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আজ শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বিষয়টিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসজুড়ে এখন ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে।