সম্ভবত এটাই শেষ, আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সামর্থ্য নেই

Perhaps this is the end
অনলাইন ডেস্ক ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন খেলা
অনলাইন ডেস্ক ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
সম্ভবত এটাই শেষ, আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সামর্থ্য নেই
--সংগৃহীত ছবি

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে ২০২৬ আসরের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে তাদের সেই আশা ভেস্তে গেছে। এরপর আর্জেন্টিনার সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপ খেলা স্কোয়াডে বিদায়ের সুর বাজছে। এটাই সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ বলে নতুন করে মুখ খুললেন ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো।


আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো চলবে। ওই সময়ে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। যা হবে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নতুন অধ্যায়ের শুরু। লিওনেল মেসি তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন এবার, যদিও এ নিয়ে আসর শেষে এখনও কিছু বলেননি তিনি। অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৩৩ বছর বয়সী লেফটব্যাক তালিয়াফিকোও সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন।


স্ত্রী কারো ক্যালভানি’র সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তালিয়াফিকো। আর্জেন্টাইন এই বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’


বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। ম্যাচসংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের মধ্যে তিনি সপ্তম সর্বোচ্চ ম্যাচে নেমেছেন। তার সামনে আছেন– লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল ডি মারিয়া এবং মারিও কেম্পেস। জাতীয় দলের হয়ে সবমিলিয়ে ৮৩ ম্যাচ খেললেন তালিয়াফিকো। সেঞ্চুরির আশা থাকলেও, সেটিও অনিশ্চিত বলে জানালেন এই লেফটব্যাক, ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’


ওতামেন্দি ছাড়াও বিশ্বকাপ শেষে বিদায়ের সুর শোনা গেছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসের কণ্ঠে। এদিকে, এবার বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও গর্ব করার মতো যথেষ্ট অর্জনের কথা বললেন তালিয়াফিকো, ‘আমাদের ইতোমধ্যে স্বর্ণপদক (চ্যাম্পিয়ন মেডেল) আছে, ২০২২ সালে পাওয়া। এখন আমরা এটি (রানার্সআপ পদক) পেলাম। আমরা বিশ্বকাপে যা করেছি সেজন্য গর্বিত হওয়া উচিত। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ ব্যাপার নয় এবং আমাদের তা মূল্যায়ন করা দরকার।’


‘আমাদের এটাও জানতে হবে কীভাবে মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি সফল হয়েছেন। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। আর দুর্ভাগ্যবশত, কখনও জয় আসে আবার কখনও পরাজয়– ফুটবল তো এমনই। তবে এটি রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নেয় এবং এর গুরুত্ব অনে ‘, আরও যোগ করেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।


একেকটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পূর্ববর্তী আসর শেষ হওয়ার পর থেকে চলে বলে জানালেন তালিয়াফিকো, ‘এমনটা ভাববেন না যে এর প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয়। বিষয়টি কেবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নয়, যার সময়কাল মাসখানেকের সামান্য বেশি। এর প্রস্তুতি চলছে সাড়ে তিন বছর ধরে, অর্থাৎ গত বিশ্বকাপের সময় থেকেই। আপনি যখন খেলার দিকটিতে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেন, যেমন শারীরিক দিক থেকে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করে আসব, তখন থেকেই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এটি কেবল এক মাসের ব্যাপার নয়, এর শুরুটা আরও আগে থেকেই হয়।’